ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। উল্টো ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রবল প্রত্যাঘাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মার্কিনযুদ্ধ পরিকল্পনা। ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতি দ্রুত ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
দূতাবাসের সতর্ক বার্তায় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘এখনই ইরাক ছেড়ে যাওয়া উচিত। যারা ইরাকে থাকতেই চাইছেন, তাদের অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে, কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্ত থাকা সন্ত্রাসী মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, ওমান থেকে জরুরি নয়, এমন সব সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সহযোগী দেশগুলোকে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্য ও অন্যদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এনবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে তিনি প্রস্তুত নন, বরং তিনি ইরানের খারগ দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ থাকবে। এদিকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা অব্যাহত আছে এবং ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে আগুন এখনো জ্বলছে।
ইসরায়েলে হামলা জোরদার করেছে ইরান : গতকাল ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশেই প্রতিরোধ বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও টোকিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বুধবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে এই বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান সুইস সরকারের : মার্কিন সামরিক বিমান মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালানোর সময় সুইজারল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের করা দুটি আবেদন সুইজারল্যান্ড সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে নিরপেক্ষতার আইন অনুযায়ী এ ধরনের ওভারফ্লাইট নিষিদ্ধ, কারণ ‘যুদ্ধ সংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহার করা এই আইনের বিরোধী।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ৯/১১ এর মতো ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র চলে বলে মনে করেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছেন, শুনেছি এপস্টেইনের গ্যাং এর বাকি সদস্যরা ৯/১১ এর মতো একটি ঘটনা সৃষ্টি করে এর জন্য ইরানকে দায়ী করার ষড়যন্ত্র করেছে।’
লারিজানি আরও বলেন, ইরান এমন সন্ত্রাসী পরিকল্পনার বিরোধী এবং আমেরিকান জনগণের সঙ্গে তেহরানের কোনো যুদ্ধ নেই।
কুয়েতে ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা : কুয়েতে ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ইতালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতে ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইতালি। এই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে : যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, তার আশা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ শেষ হবে। ক্রিস রাইট বলেন, এই যুদ্ধ অবশ্যই পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে, এর চেয়ে আগেও শেষ হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ও দাম কমে যাবে।
কেকে/ এমএস