আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নৃশংস গণহত্যার শিকার পূর্ব বাংলার জনগণ আজকের দিনে গড়ে তোলে সশস্ত্র প্রতিরোধ। দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার লক্ষে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয়ের লাল সূর্য। পৃথিবীর মানচিত্রে যুক্ত হয় বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের। আর এ স্বাধীনতা অর্জনের জীবন দিতে হয়েছে ৩০ লাখ মানুষের। অসংখ্য মা-বোনের শিকার হতে হয়েছে নির্যাতনের।
আজকের এই দিনে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই বীর সন্তানদের, যারা দেশের জন্য নিজেদের আত্মোৎসর্গ করেছেন। স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানীসহ জাতীয় চার নেতাকে যারা ধীরে ধীরে একটি জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। স্মরণ করি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যিনি জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়েছেন, রণাঙ্গনে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করেছেন। স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
দেশের সংবিধানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমরা সেই ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র বিনির্মান করতে সক্ষম হইনি। স্বাধীনতার পর থেকে যেসব রাজনৈতিক দল দেশ শাসনের ভার নিয়েছে, তারা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ না করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কেউই সচেষ্ট থাকেনি।
বরং পূর্বাপর লুটপাটের রাজনীতি করে জনগণকে বারবার প্রতারিত করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে আমরা দেখেছি জনগণ সেই প্রতারণার জবাব দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণের পাশাপাশি দেশে দুর্নীতি ও লুটপাটের শাসন কায়েম করেছিল এবং তাদের অপশাসনকে টিকিয়ে রাখতে গুম, খুন, হত্যা জারি রেখেছিল। যার পরিণতিতে আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
ফলে স্বাধীনতা দিবসে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা অনেক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের গৌরব ও মালিকানাকে সর্বদা বহির্বিশ্ব থেকে নিরাপদ ও সুসংহত রাখতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ, যা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে পুনরুজ্জীবিত করেছে ফলে আজকের এই দিনে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
বীর শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা, মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, এবং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিতে হবে। আজকের এই দিনে ৭১ এবং ২৪ এর জুলাইয়ের আত্মদানের চেতনাকে বাচিয়ে রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
কেকে/এমএ