রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
হাম প্রতিরোধে টিকাদানে গতি আনা জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করে এ রোগের বিস্তার এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা শুধু স্বাস্থ্য খাতের জন্য নয়, সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্যই বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। 

যে রোগ একসময় কার্যকর টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেটিই আবার নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এটি নিঃসন্দেহে নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতার ইঙ্গিত বহন করে। স্বাস্থ্য খাতকে রাজনৈতিকীকরণ করার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে চলতি মার্চ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশে হামের সংক্রমণে ৫৪ শিশুর মৃত্যু । 

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্য বলছে, গত কয়েক বছর ধরে দেশে শিশুদের টিকাদান হার সন্তোষজনক পর্যায়েই ছিল। ২০২২ সালে টিকাদানের হার ছিল শতভাগ, ২০২৩ সালে ৯৩.৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৬.৬ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীকালে এ হার হঠাৎ করেই কমে গিয়ে ২০২৫ সালে দাঁড়ায় মাত্র ৫৯.৬ শতাংশে। এত বড় পতন যে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনবে, তা সহজেই অনুমেয় ছিল। 

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতি চার বছর পরপর যে বিশেষ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার কথা, তা ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়নি। টিকাদান কর্মসূচির আরেকটি বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে। 

আগে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির আওতায় অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হতো। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্টে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই এ ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয়। এর ফলে নতুন প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও অর্থ ছাড় সব পর্যায়েই বিলম্ব তৈরি হয়েছে। এতে টিকা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সামগ্রিক টিকাদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য আরও উদ্বেগজনক। দেশে প্রায় চার লাখ শিশু সব টিকা ঠিকমতো পায়নি এবং অন্তত ৭০ হাজার শিশু একেবারেই টিকা পায়নি। শহরাঞ্চলে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি। টিকা না পাওয়া এসব শিশু শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে; কারণ সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। টিকাদান কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাই দ্রুত বিশেষ টিকাদান অভিযান চালু করা, টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা জরুরি। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। যথাসময়ে টিকা দেওয়া হলে এ রোগে মৃত্যু প্রায় পুরোপুরিই রোধ করা সম্ভব। তাই শিশুদের জীবন রক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে, যার মূল্য দিতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেই।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close