বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ আবহে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। দিনব্যাপী আয়োজন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, আনন্দ আর নতুন বছরের প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন ৩৬শে জুলাই চত্বর থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারসহ প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বৈশাখী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
হাততালি, মুখোশ ও ‘এসো হে বৈশাখ’ ধ্বনিতে মুখর এই শোভাযাত্রা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এক প্রাণবন্ত প্রতীকে পরিণত হয়। পরে সকাল ১০টায় শহিদ মিনার সংলগ্ন বৈশাখী চত্বরে বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর।
মেলায় ‘মায়াকুঞ্জ’, ‘ছায়াবিথী’, ‘কিশলয়’, ‘মাটির টান’সহ মোট ১৭টি স্টলে দেশীয় খাবার, হস্তশিল্প, অলংকার, পোশাক ও খেলনার সমাহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
পরবর্তীতে পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল ক্লাবের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম ময়নুল হক ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ কেবল একটি দিন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐক্য ও নতুন করে শুরু করার প্রেরণা। তাই বাঙালি সংস্কৃতিকে শতভাগ ধারণ করতে হবে।’ তিনি সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’, ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’সহ বিভিন্ন পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বৈশাখী প্রাঙ্গণ।
এছাড়া দিনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করতে ‘বাঁধন’ গাকৃবি শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সবমিলিয়ে গাকৃবির পহেলা বৈশাখ উদযাপন ছিল ঐতিহ্য, আনন্দ ও মানবিকতার এক সার্থক মিলনমেলা।
কেকে/ এমএস