আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি ও সিগারেটের অগ্রিম আয়করের বৈষম্য দূর করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিকদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো, বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা। এ সময় শ্রমিকরা প্রজ্ঞা এবং আত্মা কর্তৃক বাজেটে বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেন।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিড়ি শিল্প দেশের প্রাচীন শ্রমঘন একটি শিল্প। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই শিল্পের অবদান অপরিসীম। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রে বিড়ি শিল্পে বারবার মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিড়িতে কোনো শুল্ক ছিল না। অসম শুল্কের ভারে বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে কর্ম হারাচ্ছে শ্রমিকরা। বর্তমান সরকার অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিড়ি শ্রমিকরা ফ্যামিলি কার্ড চাই না, কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। সুতরাং বিড়ি শিল্পকে বাঁচাতে এবং শ্রমিকদের কর্ম রক্ষার্থে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করছি। এদিকে বিড়ি ও সিগারেট একই গোত্রভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বিড়ির অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ আর সিগারেটের ৫ শতাংশ। আয়করের এই বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি সপ্তাহে ছয় দিন শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
হারিক হোসেন বলেন, ‘বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি এ দেশের তামাক কোম্পানির বাজার শোষণ করছে। তারা এ দেশের মানুষের ফুসফুস পুড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। বর্তমানে তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে আছে নিম্নস্তরের সিগারেট। সুতরাং দেশীয় শ্রমঘন বিড়ি শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার্থে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ও শুল্ক বৃদ্ধির জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকা বিড়ি শিল্পের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নকল বিড়ি। নকল বিড়িতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুতরাং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা লোকমান হাকিম, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, শ্রমিক নেতা লুৎফর রহমান, সাদ আলী, রানী খাতুন প্রমুখ।
কেকে/এলএ