জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কাজের লোকসহ একই পরিবারের তিনজন সদস্য আহত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের করিমপুর শেখপাড়া গ্রামে নজরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার করিমপুর শেখপাড়া গ্রামের মৃত শেখ মোয়াজ্জিম হোসেনের ছেলে শেখ জাকির হোসেন, শেখ জুলফিকার ও শেখ দোয়েলের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলেছে। তার প্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার নতুন বসতবাড়ির পূর্ব পাশে টয়লেটের সেফটি ট্যাংক খননের কাজ চলাকালে প্রতিপক্ষরা এসে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন এবং হুমকি দিতে থাকেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিক মো. আপেলকে মারধর করা হয়।
পরে শেখ নজরুল ইসলামের ছেলে নাছির শেখ ঘটনাস্থলে এলে তাকেও জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকালে সেফটিক ট্যাংক বসানোর জন্য লেবাররা এসে গর্ত করে চলে যায়। এরপর আরেক লেবার আপেল কাজ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কাজে বাধা দিতে আসলে আপেলের সাথে কথাকাটাকাটি হয় এবং তাকে মারধর করে।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিপক্ষের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তার প্রেক্ষিতে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তারা আমার সন্তানকে মারধর কোদাল দিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
গুরুতর আহত নাছির শেখ জানান, মারামারি ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তিনি। এরপর তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ এবং তার মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করা হলে মাটিতে লুটিয়ে পরেন তিনি। পরবর্তী স্থানীয়রা তাকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (২০ এপ্রিল) তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করানো হয়।
শ্রমিক আপেল জানান, রোববার বিকালে চারটায় নজরুল ইসলামের বাসায় কাজ করতে আসেন তিনি। সেফটিক ট্যাংক থেকে তোলা মাটি বাড়ির আঙিনায় সমান করে বিছিয়ে দেন তিনি। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন এসে তার কাজে বাধা দিলে কথাকাটাকাটি হয় এবং তাকে মারধর করে। কালাই হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শেখ জাকির হোসেনর বলেন, ‘আমি একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্কুল থেকে বাসায় ফিরলে তার বউ বাসা থেকেই তাকে বের হতে দেয়নি। মারামারির সময় ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। এসব মিথ্যা।’
এ বিষয়ে কালাই থানার ডিউটি অফিসার মো. আতোয়ার বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় লিখিত এজাহার পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ