মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
মাঠে নিষ্ক্রিয় বিএনপি সক্রিয় বিরোধীরা
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর রাজনীতির মাঠে এখন তুলনামূলকভাবে নীরব দীর্ঘদিন রাজপথকেন্দ্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা রয়েছেন প্রশাসনিক ব্যস্ততায়। অন্যদিকে নানা অভ্যন্তরীণ কারণে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরাও নিষ্ক্রিয়। আর এ শূন্যতা কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলগুলো একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সরব হয়ে উঠেছে। সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের সক্রিয়তা বাড়ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারে যাওয়ার পর যে কোনো বড় দলের ক্ষেত্রেই মাঠের রাজনীতিতে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায়। কারণ, তখন দলীয় নেতাদের বড় অংশ প্রশাসনিক দায়িত্ব, নীতিনির্ধারণ, মন্ত্রণালয় পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে রাজপথকেন্দ্রিক রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিতি কমে যায়। সরকারে গেলে দলকে রাষ্ট্র চালাতে হয়, আর বিরোধীদের কাজ হয় সরকারকে প্রশ্ন করা। এ কারণেই সরকার গঠনের পর শাসক দল কিছুটা নীরব থাকলেও বিরোধীরা সক্রিয় থাকে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক চিত্র।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বিএনপির ভেতরে। দলটির একাধিক নেতা মনে করেন, শুধু সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত থাকলেই চলবে না, রাজনৈতিক মাঠেও সমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে জনমত নিজেদের দিকে টেনে নিতে পারে।

তাদের ভাষ্য, সরকার চালানো যেমন জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক যোগাযোগও জরুরি। মাঠে না থাকলে মানুষ ধরে নেয় দল দূরে সরে গেছে। তখন বিরোধীরা সুযোগ নেয়।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিএনপির এক নেতা বলেন, দল যদি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি না বাড়ায়, তবে রাজনৈতিক মাঠে বিরোধীরা দিন দিন শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি বা কোনো জাতীয় ইস্যু সামনে এলে বিরোধী দলগুলো সেটিকে বড় আন্দোলনের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে।

তার মতে, সরকারে থাকা দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনিক সফলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক শক্তি ধরে রাখা। শুধু রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হলেই হবে না, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কও বজায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে জামায়াতসহ বিরোধীরা। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে জোটবদ্ধ আন্দোলন করছে ১১-দলীয় ঐক্য।

গণভোট নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন: গণভোট ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিরোধী ঐক্য। তারই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গণসমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় মেনে না নিলে আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম নেওয়া হবে না। আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে। রাজপথ ও সংসদ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে নদী আর সমুদ্রের জোয়ার থামানো যাবে না।

সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, গণরায়কে অমান্য করায় ১৯৭১ সালে যুদ্ধ অনিবার্য হয়েছিল। যারা রায় অস্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবার যারা রায় অস্বীকার করছে, তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত অংশ মনে করে। সেই মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করে তারা যেন রায় মেনে নেয়।

সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংসদে আছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট বাস্তবায়নের পক্ষে কথা বলার জন্য। আর রাজপথে আছেন আল্লামা মামুনুল হকসহ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীরা। ইনশাআল্লাহ, আমরা একত্রে আছি। যদি সময়মতো দাবি আদায় না হয়, সংসদ এবং রাজপথ একাকার হয়ে যাবে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার যদি গায়ের জোরে গণভোটের রায় এড়িয়ে যেতে চায়, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। বিরোধী দল চায় সরকার যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

নির্বাচন কমিশনারদের সমালোচনা করে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে বসে আছে আরেক চোর। তার মাধ্যমে এসব রিগিং (জালিয়াতি) হয়েছে।’ বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে সবদিক থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করলেও সরকার সেটি গ্রহণ করছে না—এ অভিযোগ করে অলি আহমদ বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আর বেশি খাতির করে লাভ নাই। সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না।’

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু) বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনরায় বাস্তবায়িত হতে দেয়নি তৎকালীন পাকিস্তানি ইয়াহিয়া সরকার। ক্ষমতার জোরে সেই গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। ৫৫ বছর পর এসে বাংলাদেশের এমন এক দলের ওপর আবার পাকিস্তানি জান্তা ভর করেছে, যারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে দিতে চায় না। তারা আবার ইয়াহিয়া সরকারের পথে হাঁটছে। ক্ষমতায় গিয়ে সবাই অতীত ভুলে যায়। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে আবার একাত্তরের মতো মুক্তিযুদ্ধ হবে, জীবন দিয়ে দেশে নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যারা ইসলামকে ভালোবাসে, বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে, তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে থাকতে পারে না। বিএনপি যেন তাদের ঐতিহ্যের ৫০ বছরের রাজনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকতে পারবে না। বিএনপি গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিলে তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   বিএনপি   বিরোধী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close