মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
হামের বিস্তার ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কয়েক বছর আগেও আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে, টেকসই টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের ফলে হাম হয়তো আর বড় কোনো জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ফিরে আসবে না। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যতটা কঠিন, সামান্য অবহেলায় তার ফিরে আসা ততটাই দ্রুত ও ভয়াবহ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশে হামের বিস্তারকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিশালসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে এ রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটি গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বার্তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে এটি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রাদুর্ভাব নয়, বরং একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। 

সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু। এদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে, কেউ কেউ এক ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করেনি। এমনকি টিকার বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে—যা নির্দেশ করে যে কমিউনিটিতে সংক্রমণের মাত্রা কতটা প্রকট।

এ পরিস্থিতির মূলে রয়েছে টিকাদানের ঘাটতি। সরবরাহ শৃঙ্খলে ত্রুটি, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং বড় আকারের সম্পূরক টিকাদান অভিযান সময়মতো না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের এ সুরক্ষা বলয়ে ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে বস্তি এলাকা ও দুর্গম অঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে এ সংক্রামক রোগটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে, যা আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। 

সরকার বর্তমানে টিকাদান ও ভিটামিন ‘এ’ বিতরণের মতো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সংক্রমণের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে আমাদের আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথমত, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা পৌঁছে দিয়ে ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা জরুরি, কারণ শনাক্তে বিলম্ব মানেই সংক্রমণের বিস্তার। 

হাসপাতালগুলোতেও হাম আক্রান্তদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য আসা সুস্থ শিশুরা নতুন করে সংক্রমিত না হয়। একইসঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনো শূন্যতাই দীর্ঘকাল চাপা থাকে না; এক সময় তা বড় সংকট হয়েই আত্মপ্রকাশ করে। হামের বর্তমান পরিস্থিতি সে সতর্কবার্তাই দিচ্ছে। টিকাদানে সামান্য শিথিলতা যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে, তা আমরা এখন উপলব্ধি করছি। এখনই যদি আমরা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে দৃঢ় ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিই, তবে এর চরম মূল্য দিতে হবে আমাদের শিশুদের যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনার এ লড়াইয়ে সময়ক্ষেপণের আর কোনো সুযোগ নেই।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close