মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শ্রমিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আজ পহেলা মে, মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দিন। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে জীবন দেওয়া শহীদ শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। এটি শুধু ছুটি নয়, বরং মেহনতি মানুষের রক্তে লেখা অধিকার অর্জনের সংগ্রাম ও সংহতির প্রতীক। মে দিবসে সব সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। 

তবুও কিছু মানুষ রুটিরুজির সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন কাজে। কারণ একবেলা কাজ না করলে তার পরিবারকে কাটাতে হবে অনাহারে। কারও কারও আবার মেলে না ছুটি। ছুটির দিনে কাজের জন্য জোটে না বাড়তি অর্থও। আট ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ম চোখে পড়ার মতো।  

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তৈরি পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত, পরিবহন, কৃষি, চা-বাগান থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি প্রায় সব খাতই শ্রমনির্ভর। অথচ ২০২৫ ও ২০২৬ সালের শ্রমিক আন্দোলনগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়ন সমানতালে এগোয়নি। গত দুই বছরে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, ছাঁটাই এবং কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। কোথাও কারখানা ঘেরাও, কোথাও মহাসড়ক অবরোধ, আবার কোথাও প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। 

শ্রমিকদের দাবি খুব জটিল ছিল না, তারা চেয়েছেন সময়মতো মজুরি, চাকরির নিশ্চয়তা এবং ন্যায্য আচরণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব মৌলিক দাবিও বারবার আন্দোলনের মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করতে হচ্ছে। শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। চাকরির নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সময়ে চা-শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন বাংলাদেশের শ্রম কাঠামোর দীর্ঘদিনের বৈষম্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুরি নিশ্চিত না হলে শ্রমিকের কাছে উন্নয়ন কেবল পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ থাকে।

বাংলাদেশে শ্রম আইন ও শ্রম অধিকার নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শ্রমিকদের বড় অংশ এখনও দুর্বল সংগঠন, সীমিত দর-কষাকষির ক্ষমতা এবং আইনি জটিলতার মধ্যে আটকে আছে। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন বা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার পথও সহজ নয়। ফলে শ্রমিকের ক্ষোভ জমতে জমতে একসময় বিস্ফোরিত হয়। মে দিবসের মূল শিক্ষা কেবল ছুটি উদযাপন নয়, বরং শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। একটি রাষ্ট্র তখনই টেকসই উন্নয়নের দাবি করতে পারে, যখন উৎপাদনের মূল শক্তি শ্রমিক শ্রেণি নিরাপদ, সম্মানজনক ও ন্যায্য পরিবেশে কাজ করতে পারে। 

শুধু জিডিপি বৃদ্ধি বা রপ্তানি আয়ের হিসাব দিয়ে উন্নয়ন মাপা যথেষ্ট নয়; দেখতে হবে শ্রমিকের ঘরে আলো জ্বলছে কি না, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত হচ্ছে কি না। সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠন, তিন পক্ষকেই এখন দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। সময়মতো বেতন পরিশোধ, শ্রম আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকবান্ধব সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেও বের হতে হবে। এই মে দিবসে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই: যারা দেশের অর্থনীতির ভিত গড়ে, তাদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত মে দিবসের তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  উন্নয়নের ধারাবাহিকতা   শ্রমিক কল্যাণ   অগ্রাধিকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close