গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের নলী বিলে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কেটে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাংসদ সালাউদ্দিন আইয়ূবি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তির আভাস।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে নলী বিল এলাকায় গিয়ে সালাউদ্দিন আইয়ূবি কাস্তে হাতে নেমে পড়েন ধান কাটার কাজে।
এ সময় তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের কৃষক মুহা. আল-আমিন শেখের প্রায় ২৫ শতাংশ জমির তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে দিতে সহায়তা করেন। তার সঙ্গে স্থানীয় চাঁদপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও ধান কাটায় অংশ নেন।
কৃষকরা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বিলের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান হঠাৎ করেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। এমন সংকটময় মুহূর্তে জনপ্রতিনিধির সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করায় কৃষকদের মাঝে নতুন করে সাহস জাগে।
মুহা. আল-আমিন শেখ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ২৫ শতাংশ জমির ধান পানির নিচে তলাইয়া গেছিল। ভাবছিলাম সব শেষ ঋণ করে চাষ করছি, কীভাবে উঠামু কিছু বুঝতেছিলাম না। এমপি সাহেব নিজে আইয়া ধান কাইটা দিছে, এইটা আমার জীবনের বড় সহায়তা। আল্লাহ উনাকে ভালো রাখুক।”
নলী বিলের আরেক কৃষক বলেন, আমাদের ধান পুরা পানির নিচে চলে গেছিল। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম কীভাবে ধান তুলব, কীভাবে সংসার চালাব। এমপি সাহেব নিজে আইয়া আমাদের সাথে ধান কাটছেন, এটা আমরা কল্পনাও করি নাই। তারে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা নাই।
আরেক কৃষক বলেন, এভাবে একজন জনপ্রতিনিধি মাঠে নেমে কাজ করবে এটা আমাদের জন্য বড় সাহসের বিষয়। অনেক ধান নষ্ট হইত, এখন অন্তত কিছুটা বাঁচানো যাইতেছে।
ধান কাটার সময় সালাউদ্দিন আইয়ূবি বলেন, “কৃষকরা আমাদের দেশের প্রাণ। তাদের কষ্ট মানে দেশের কষ্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যতটুকু সম্ভব আমরা সহযোগিতা করে যাব, যাতে তাদের ক্ষতি কমানো যায়।”
এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী, চাঁদপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারাও কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটার কাজে অংশ নেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
কৃষকদের সঙ্গে এই সংহতি ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু ধান রক্ষাই নয়, কৃষকদের মনোবলও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেকে/এমএ