গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) আইটি সোসাইটির উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও বাস্তব সমস্যার ডিজিটাল সমাধান খোঁজার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী আইডিয়া-ভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘ইমপ্যাক্ট চ্যালেঞ্জ’।
দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৫৩টি দল এতে অংশ নেয়, যা তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানমুখী চিন্তার ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।
প্রাথমিক বাছাই শেষে সেরা ৫টি দল সোমবার (৪ মে) রাতে গাকৃবির পুরাতন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। এর মধ্যে দুটি দল ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সফলভাবে পিচ সম্পন্ন করে।
চূড়ান্ত ফলাফলে গাকৃবির টিম ‘ভলটিক্স’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার-আপ হয় ‘ফোকাস ইনোভেটর’ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ দল ‘ফিনিক্স’ দ্বিতীয় রানার-আপ হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গাকৃবির পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম, ড. সাত্ত্বিকেশ পাল এবং বি.এম. রোকনুজ্জামান লাভা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ‘সকলের জন্য উদ্ভাবন ও টেকনোলজি’ শীর্ষক একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, সামাজিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন ড. হুমায়ুন কবির, ড. সাত্ত্বিকেশ পাল, বি.এম. রোকনুজ্জামান লাভা এবং মাহমুদ আল হাসান বিভোর। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন আইটি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুদ্রনীল মণ্ডল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “আধুনিক বিশ্বের জটিল সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি কৃষিখাতে প্রিসিশন এগ্রিকালচারসহ প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, যিনি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফ রায়হান। শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, ‘ইমপ্যাক্ট চ্যালেঞ্জ’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি প্ল্যাটফর্ম—যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব জীবনের সমস্যার কার্যকর সমাধান ভাবতে শেখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
কেকে/এসএম