বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম: নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা আলজেরিয়ার      হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল      গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আ. লীগের আপত্তি, পাল্টা জবাব জাতিসংঘের      দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে একটি দল : মির্জা ফখরুল      মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার : যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার      আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ      বাজেটের আগে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি স্বেচ্ছাচারী, সাইফুল হকের ক্ষোভ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ফের আলোচনায় হাদি হত্যা
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৯:০৯ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার বড় ভাই ওমর বিন হাদির দেওয়া ফেসবুক পোস্ট ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ আলোচনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার। এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, সব জানি। বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে’। 

একই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুরোধ এসেছিল। তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে হাদি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে নানা আলোচনা দেখা গেলেও সরাসরি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

পরদিন গত মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি দাবি করেন- ‘শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে ইন্টেরিম সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।’ পরে আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার পটভূমি তৈরিতে জড়িত ছিলেন আমিরে জামায়াতের একজন পিএস। হাদিকে ঢাকা-৮ আসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের ওপর ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছিল।’

এদিকে পোস্টগুলো যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়েছে, সেটি ওমর হাদির বলে নিশ্চিত করেন ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক সংগঠক ও পরিবারের সদস্যরা। এর আগে একই অ্যাকাউন্ট থেকে ‘প্রয়োজনে তোমরা হাদির স্ত্রীকে নিয়ে যাও, শুধু সন্তানটাকে আমাকে দিয়ে দাও’- এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যও করতে দেখা যায় তাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক সংগঠক জানান, ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। ওমর হাদির সাম্প্রতিক পোস্টগুলো সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ওমর হাদি নিজের স্বার্থে তার ভাইয়ের নাম ব্যবহার করছেন। 

এদিকে হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে কথা বলতে চান না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল বুধবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, হাদি হত্যার আসামি যারা ভারতে গ্রেপ্তার আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে চায় সরকার। আর সেটা করা হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

মমতার ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আকাশ-পাতাল বলেতো লাভ নেই। আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে, সে দেশে একজন পরাজিত হয়েছেন, সেই পরাজিত একজন নেতা একটা কথা বলেছেন, দ্যাট ইজ নট আওয়ার ম্যাটার টু ডিসকাস।’ তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কাজ চলছে, কাজ এগিয়েছে এবং খুবই সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদেরকে ফেরত এনে এখানে বিচার বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে কিন্তু আমরা সচেষ্ট আছি। এখন আরেকজন, একটা ইলেকশন হয়েছে আরেকটা দেশে, পাশের দেশে, সেখানে যিনি হেরে গেছেন, তিনি বলছেন উনাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে, সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশে আমার কমেন্ট করা উচিত হবে বলে আমি মনে করি না।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাদি হত্যার ব্যাপারে আমার (কাজ) ডিরেক্টলি গভার্নমেন্টের সাথে, কারণ আমার যদি এই কালপ্রিটদেরকে ফেরত আনতে হয়, তাদেরকে কিন্তু আমার ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে ফেরত আনতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি খুবই সিরিয়াসলি এবং এটা কিন্তু এগিয়েছে, বেশ ভালো এগিয়েছে। সুতরাং আমরা ওইদিকে আগাতে চাই। এখন বাংলাদেশের সাথে যদি তারা কোনো কথা বলে, তখন সেটা আমরা দেখব।’

অন্যদিকে ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর হাদির আলোচিত দুই পোস্ট নিয়ে কথা বলেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘ওমর হাদি যেই দুইটা পোস্ট করেছেন, এই দুইটা আপনারাও যখন দেখেছেন আমরাও তখনই দেখেছি; মানে এমনটা না যে আমাদের সাথে আলোচনা করে উনি এই পোস্ট দুটি দিয়েছেন। এটা উনি কেন দিয়েছেন এটার উত্তর উনি সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন। কারণ, আপনারা জানেন যে, ইলেকশন কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের নেগোসিয়েশন হয়।’ 

গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

জাবের বলেন, ‘আমার জানামতে বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলই শহীদ ওসমান হাদির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে নেগোসিয়েশন করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও ঢাকা-৮ আসন থেকে ইলেকশন না করবার ব্যাপারে (বলা হয়েছে)...।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই ঢাকা আট এবং বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক বিভিন্ন সমীক্ষা, সেখানে ঢাকা-৮ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে প্রত্যেকটা দলই চাইবে যে ঢাকা-৮ আসন তার হাতে থাকুক। সেই জায়গা থেকে বিএনপি এবং জামায়াত প্রত্যেকেই তার সাথে নেগোসিয়েশন করেছে এবং তারা বলেছে যে, আপনি যদি অন্য কোনো আসন থেকে ইলেকশন করতে চান সে ক্ষেত্রে আমরা আপনাকে সহায়তা করব। এটা বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই (বলেছে)। এর বাইরে আমার কাছে অন্য কোনো তথ্য নাই এবং ইনকিলাব মঞ্চের কাছেও এই ব্যাপারে আর কোনো তথ্য নাই। এই ব্যাপারে তারাই সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারবেন, তিনি কেন এই কথাগুলো বলেছেন।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তখন বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাইকমিশনের সামনে এবং ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশন ও উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে থাকছেন এবং তাদের দুজন সহায়তাকারীকে (ভারতীয়) গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে ভারত সে সময় তাদের গ্রেপ্তারের কথা শিকার করেনি। পরে মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গত ৮ মার্চ গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে ভারতের পুলিশ। এরপর থেকে এখনো তারা দেশটির কারাগারে রয়েছেন।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  আলোচনায় হাদি হত্যা   শরীফ ওসমান হাদি   ইনকিলাব মঞ্চ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close