সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: গুমে শাস্তি যাবজ্জীবন, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন      হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৮০      পুলিশ টিমকে একসঙ্গে চা বা বিশ্রামে না যাওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      ডিএসইর গণছাঁটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি কর্মকর্তাদের      দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী      অনুসন্ধানে অবহেলার মাশুল দিচ্ছে দেশ      আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সেন্টমার্টিনে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে এলজিইডির আয়নাবাজি
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:২০ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পর্যটন দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ‘বঙ্গবন্ধু সড়ক’ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কার্যাদেশ পাওয়ার চার বছর পরও কাজ সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’-এর আওতায় সেন্টমার্টিনের ১২০০ মিটার থেকে ৩২০০ মিটার পর্যন্ত ‘বঙ্গবন্ধু সড়ক’ ইউনি-ব্লক দিয়ে উন্নয়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এপেক্স এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

এদিকে, প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আর এ কাজে তৎকালীন টেকনাফ উপজেলা এলজিডির সাবেক সহকারী প্রকোশলী আরিফ হোসেন সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

যদিও আরিফ হোসেনের দাবি, এতে তার কোনো যোগসাজশ নেই। এ বিষয়টি পুরোপুরো জেলা তদারকি করেছেন। 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- সেন্টমার্টিনের এ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পটির মোট চুক্তি মূল্য ছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান বা মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা অগ্রিম বিল হিসেবে তড়িঘড়ি করে প্রদান করা হয়। নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী নিজ ক্ষমতাবলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরুর আগেই এ মোটা অঙ্কের অর্থ ছাড় করে দেন। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় যে সামান্য কাজ দেখানো হয়েছে, তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। টেকনিক্যাল প্যারামিটার অনুযায়ী এ কাজ কোনোভাবেই বিল পাওয়ার যোগ্য নয়। 

সড়কের কাজে যেসব ত্রুটি ও জালিয়াতি  

এ প্রকল্পের কাজের মান যাচাই করতে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তারা গত মাসের ২৯ তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- প্রাক্কলন অনুযায়ী সড়কের পাশে ব্যবহৃত প্রি-কাস্ট কার্ব স্টোনের শক্তি ৩০ মেগাপ্যাসকেল থাকার কথা থাকলেও জেলা ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে মাত্র ৩.২ মেগাপ্যাসকেল; যা চরম নিম্নমানের এবং ডিজাইনবহির্ভূত। নকশায় পিসিসি থিকনেস ১০০ মিলিমিটার থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন চেইনেজে তা পাওয়া গেছে মাত্র ৬২ থেকে ৮৩ মিলিমিটার। প্রাক্কলনে সড়কের প্রস্থ ৩.৭০ মিটার নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে ঠিকাদার সড়কটি তৈরি করছে মাত্র ৩.০০ মিটার প্রস্থে, অর্থাৎ প্রায় পৌনে এক মিটার রাস্তা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। ইউনি-ব্লকের মধ্যবর্তী জয়েন্টগুলোতে নির্দিষ্ট মানের বালি (এফএম=০.৮) দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা মোটেও করা হয়নি। 

এসব গুরুতর ত্রুটির পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন গত ২৯ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় বিল আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, বিষয়টি অবগত আছি। যারা কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তবে প্রকল্প পরিচালক জাকির হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। 

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সেন্টমার্টিনে সড়ক উন্নয়ন   প্রকল্পে এলজিইডির আয়নাবাজি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close