আওয়ামী লীগ গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির মিছিল ২-৩ মিনিটের হলেও ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এতে করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের মিছিলে অংশগ্রহণ করা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হচ্ছে মামলা। গ্রেপ্তার হচ্ছেন বহু নেতা।
তবে এবার গ্রেপ্তার ও মামলা এড়াতে কৌশল অবলম্বন করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ। শুক্রবার (৫ জুন) কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুরে কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড পেজে মুরাদনগরে আওয়ামী লীগের মিছিল বলে প্রচার করে।
বিষয়টি ফেসবুকে প্রচার হলে ঘটনাস্থলে সেকেন্ড অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশের ফোর্স পাঠান মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। পুলিশ গিয়ে নিশ্চিত হয়- মিছিলস্থল মুরাদনগর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে দেবিদ্বারের ইউসুফপুর অংশে পড়েছে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মিছিলের সাথে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের পলাতক এক নেতা জানান, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল, দেবিদ্বার বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আউয়াল, মুরাদনগরের নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো .জাকির হোসেন, ব্রাহ্মণ চাপিতলার আওয়ামী লীগ নেতা আল আমিনকে মিছিল সমাবেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
মুরাদনগরে আওয়ামী লীগ মিছিল করার সুযোগ না পেয়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির দেবিদ্বারকে টার্গেট করে মিছিল ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আওয়ামী লীগ। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ চোরাগোপ্তা মিছিল করছে। এরা ২-৩ মিনিটও রাস্তায় থাকে না। পালিয়ে যায়। আমাদের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে।’
এ নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব তারেক মুন্সী বলেন, ‘মিছিলের বিষয়ে আমি অবগত নই।’
কেকে/এমএ