যশোরের কেশবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথা বলে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকালে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মো. তাসের আলী মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসের আলী বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হাজী জমশের খাঁন ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম-অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী পৌরসভার মধ্যকুল মৌজার আসাদুজ্জামান খান, ইকরামুছ সালাম খান ও পারভেজ হাসান খানের নিকট থেকে অগ্রীম জামানত দিয়ে মাসিক ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসায় করার লক্ষ্যে ট্রাক টার্মিনালের উত্তর পাশে ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ শুরু করি। এখানে ইটের গাঁথুনির কাজও শেষ করা হয়। কাজ শেষে প্রায় ২ মাস পর ইটের গাঁথুনির ওপর ছাউনির কাজ শুরু করলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নোটিশের মাধ্যমে কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর মধ্যকুল গ্রামের মৃত আব্দুল করিম খানের ছেলে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু আমাকে ডেকে বলেন, ‘‘আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। মোতাওয়াল্লী সালাম ও আসলাম এখন কিছুই না। মোতাওয়াল্লী সালাম খান ওয়াকফ সম্পত্তির একটি গাছ না কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন। আমরা মসজিদ কমিটির লোক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলে সেই গাছ কাটার অনুমতি এনে দিয়েছি। আমি মসজিদের সেক্রেটারি ও আমার ভগ্নিপতি মোজাম্মেল খান সভাপতি। এখন থেকে ভাড়ার টাকা আমাদের নিকট দিতে হবে।’’ এরপর থেকে আমি ঘরের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর নিকট যোগাযোগ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু কোরবানির ঈদের আগের শনিবার আমার কাছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট থেকে কাজ করার অনুমতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে ছাউনির কাজ শুরু করার জন্যও বলে। আমি ডাবলু খানের কথামত কাজ শুরু করি। তার (ডাবলু খানের) দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় কাজে বাধাসহ আমার ভাই কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের নাম জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে তাদের সম্মানহানী করে চলেছে।’
তাসের আলী বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ তদন্তপূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হওয়ায় দল এবং প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন বিতর্কীত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনের তাসের আলীর ভাই কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়ল উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ