কুষ্টিয়া শহরের চর মিলপাড়া এলাকায় এক শিশু কন্যাকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগে আছায় সরদার (৩৫) নামে যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আছায় সরদার বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্যাতিত শিশুটিকেও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে চর মিলপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে বান্ধবীর সাথে খেলা করছিল শিশুটি। এ সময় আছায় সরদার দুই শিশুকেই ফুসলিয়ে পাশের একটি স্কুল ভবনে নিয়ে যান। সেখানে ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অন্য শিশুটিকে তাড়িয়ে দেয় আছায়।
বিতাড়িত শিশুটি দ্রুত বাড়ি ফিরে পরিবার ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন ওই স্কুলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী আছায়কে ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাকে তাৎক্ষণিক রক্ষা করা যায়নি। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আছায়কে উদ্ধার করে এবং আটক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
শিশুটির বাবা-মা এই জঘন্য অপরাধের জন্য অভিযুক্ত আছায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন হওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না। আমরা তার চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণ অথবা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হওয়ার পর আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ