কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের গৃহবধূ সুখী খাতুনকে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার পিতা মো. বকুল শেখ।
শনিবার (৭ জুন) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বকুল শেখের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন। বকুল শেখের বাড়ি কুচিয়ামোড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে বকুল শেখ বলেন, তিনি মেয়ে সুখী খাতুনকে প্রায় ১৫ বছর আগে একই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেন। সাইফুল ইসলাম প্রবাসী। পাশের গ্রামের ভাতিজা সম্পর্কে মো. ফয়সাল সুখী খাতুনের বাড়িতে যাতায়াত করত।
বকুল শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘যাতায়াতের সূত্র ধরে গোপনে সুখী খাতুনের ছবি তুলে সুপার ইম্পোজ বা এডিটিংয়ের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি যুক্ত করে ব্ল্যাকমেইল করতো এবং টাকা আদায় করতো। বিভিন্ন সময় সুখী খাতুনের নামে আশা ও অ্যাডো এনজিওর থেকে ঋণ তুলে ফয়সাল নিত।’
একপর্যায়ে সুখী অতিষ্ঠ হয়ে বিষয়টি পিতা-মাতাকে জানালে ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয় এবং গত ৫ এপ্রিল সকালে সুখী খাতুনের বাড়িতে যায়। সেখানে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে মারধর করে গলা টিপে তাকে হত্যা করে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে খাটের উপর বসা অবস্থায় রেখে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একটি ওড়না বেঁধে অপরপ্রান্ত গলায় বেঁধে দিয়ে পালিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠায় এবং ভেড়ামারা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।
বকুল শেখ দাবি করেন, আসামি ফয়সাল তার মেয়ের সুখীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং ফয়সালের পিতা আলাউদ্দিন ওই মোবাইলে ব্যবহৃত সুখী খাতুনের নামের সিমটি ভেঙে ফেলে।
ঘটনার দিন থেকেই ফয়সাল পলাতক রয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য সুখী খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
কেকে/এমএ