সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম: তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা      বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোল মেসির      ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের চতুর্থ শিরোপা ও নিষিদ্ধ ম্যারাডোনা      জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার : ত্রাণমন্ত্রী      চিরকুটে যুবকের নাম লিখে নবম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা      আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      এসএসসির ফল ২০ জুলাই      
দেশজুড়ে
কুষ্টিয়ায় অপহরণ ও পাচার চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার, তিন শিশু উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি করার উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা জেলা পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ঢাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

পুলিশের ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ শিশু পাচারকারী চক্র, যার অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও আরও কোনো শিশু অপহৃত হয়ে থাকলে তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাতে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফতে আক্তারকে (২১) ও শাহানাজ বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল সকালে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে সিফাত (১০) ও মোমিন (৯) নামে দুই শিশুকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে তাদের যশোরে নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। 

শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সিফাতের মা মোছা. শেফালী আক্তার গত শনিবার রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সন্দেহভাজন ফতে আক্তারকে (২১) আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে ফতে আক্তার শিশু অপহরণ ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য শাহানাজ বেগমকে মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তদন্তে জানা যায়, ফতে আক্তার অপহৃত দুই শিশুকে শাহানাজ বেগমের কাছে বিক্রি করেছিল।

পরে শাহানাজ বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। সেখানে জানা যায়, কিছু দিন আগে স্টেশনে ভিক্ষাবৃত্তিরত অবস্থায় পাওয়া তিন শিশুকে কমলাপুর রেলওয়ে থানা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো)’ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছিল।

পোড়াদহ রেলওয়ে থানার পুলিশ আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয় যে, তারা কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে এসেছে এবং একই ধরনের কৌশলে অপহৃত হয়েছিল। পরবর্তী তাদের অভিভাবকদের সন্ধান পাওয়া যায় এবং শিশুদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া করেছে।

এ ঘটনায় পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২’-এর ৬/৭/৮/১০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অপহৃত শিশু মমিনের মা সুমি খাতুন বলেন, ‘আজ থেকে এক মাস পাঁচ দিন আগে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আমার ছেলে মমিন নিখোঁজ হয়ে যায়। ছেলেকে খুঁজে পেতে আমরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাইনি। আমি ভিক্ষা করে খাই ছেলেকে হারিয়ে দুশ্চিন্তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটছিল। অবশেষে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে জেনে আমি অত্যন্ত খুশি ও স্বস্তি বোধ করছি।’

খুলনা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আহমদ মাঈনুল হাসান বলেন, ‘শিশু পাচার ও জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তির মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।’

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রেলওয়ে স্টেশন বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের একা না রাখতে এবং সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ রেলওয়ে পুলিশকে জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং শিশু পাচারকারী চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনে তদন্ত চলছে।

কেকে/এমএ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close