স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও কক্সবাজারের রামু উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। যুগের পর যুগ পার হলেও এখানে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে, দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন ও কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও রাজারকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সরাসরি এই নদী পারাপারের সাথে জড়িত। বিশেষ করে ফুলনীর চর, দ্বীপ শ্রীকুল, পূর্ব রাজারকুল ও কাউয়ারখোপ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হতে হয়। সব মিলিয়ে ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই রুটের কারণে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে লেবু ও নানা রকমের সবজি চাষ হয়। এছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষ গরু-ছাগল পালন ও দুগ্ধ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। কিন্তু স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত সবজি, লেবু ও দুধ মাথায় করে নদী পার করে রামু বাঁশ বাজার চেরাংঘাটা (ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন) ও অন্যান্য বাজারে নিয়ে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন যাতায়াত খরচ বাড়ে, অন্যদিকে নষ্ট হয় পণ্যের ন্যায্য মূল্য। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এলাকার শিশুরা। গ্রামগুলোতে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছোট ছোট শিশুদের প্রতিদিন এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে ওপাড়ের স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া কোনো মানুষ গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে পড়তে হয় চরম বিপাকে। একটি স্থায়ী ব্রিজের অভাবে থমকে আছে এই জনপদের সামগ্রিক উন্নয়ন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুবিন বলেন, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নেই। দেশ স্বাধীনের এতগুলো বছর হয়ে গেল, অথচ আমাদের একটা ব্রিজের দাবি পূরণ হলো না। আমাদের মাথায় করে সবজি আর লেবু বাজারে নিতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভয় লাগে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে, যখন ওরা এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে স্কুলে যায়। কোনো মানুষ রাতে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, এখানে যেন দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ করে আমাদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।’
রামু উপজেলা প্রশাসন জানায়, স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তারা অবগত আছেন। ৩টি ইউনিয়নের সংযোগস্থল এবং অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত দিক বিবেচনা করে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে সেতু নির্মাণ করে জনগণের দীর্ঘদিনের এই কষ্টের স্থায়ী সমাধান করা যায়।
কেকে/এমএ