কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ, লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসবা বাসটার্মিনাল মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি এসব ঘোষণা দেন।
চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দুপুর থেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও দলীয় নেতাকর্মী রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মাঠে অবস্থান করে তার বক্তব্য শোনেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক শিগগিরই ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। সড়ক উন্নয়ন হলে কক্সবাজারসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।’
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। চিকিৎসা খাতে জনগণের ব্যয় কমাতে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার ওপর কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট কর বাতিল করা হয়েছে। হৃদরোগীদের বাইপাস সার্জারির ওপর আরোপিত করও প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফলে চিকিৎসা খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এছাড়া চোখের ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত লেন্সও করমুক্ত করা হয়েছে।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এবারের বাজেটে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিএনপি সরকার মদ, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করেছে। যারা মদ ও সিগারেটের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিবাদ করে, তারা জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে না। জনগণ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’
নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘নারীরাই সংসার সামলান বলেই আমরা দেশের উন্নয়নের কাজ করতে পারি। প্রতি উপজেলায় ১০ হাজার করে পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ জন্য চলতি বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
কক্সবাজারের লবণ চাষিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লবণ চাষিদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধান ও মৎস্যচাষিরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রতি উপজেলায় ৮ হাজার কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে ‘
তিনি লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে।’
‘বাংলাদেশকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে বেকারত্ব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। বিএনপির রাজনীতি দেশের ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোনোভাবেই যেন দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আবার কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে ফেরার পর আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং ধাপে ধাপে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” স্লোগান উচ্চারণ করেন এবং কক্সবাজার জেলায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জোবাইদা রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
জনসভায় পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রসিদুজ্জামান মিল্লাত, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, সাংসদ শাহাজাহান চৌধুরী, লুৎফর রহমান কাজল, শামীম আরা স্বপ্না, আলমগীর মো. মাহফুজুল্লাহ, সাচি প্রু জেরি, আবু সুফিয়ান, সাঈদ আল নোমান, জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ