কথিত বাংলাদেশি বলে সীমান্তে নাগরিকদের পুশইনে একের পর এক অপচেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ)। গত শুক্রবার রাতেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। আলোচনা, আহ্বান বা কোনো কূটনৈতিক বার্তাই তারা মানছে না। কোনো আইনও তারা মানছে না। তবে সীমান্তে কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে জলে-স্থলে কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে সীমান্তের এই অতন্দ্র প্রহরীরা। ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকেই বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নদীপথে ১৫ জনের পুশইন ঠেকাল বিজিবি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি তাৎক্ষণিক ও কঠোর বাধার মুখে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে রোকনপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় এ ঘটনা ঘটে। পুশইনের শিকার হওয়া দলটিতে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন শিশু ছিল।
নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২২০/এমপির কাছে ভারতের কোটালপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে নৌকাযোগে নদীপথে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নিয়ে বাধা দেন।
বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীরা শূন্য রেখায় ভারতের ভেতরেই দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। পরে বিজিবির কঠোর তৎপরতা ও জোরাল প্রতিবাদের মুখে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে তাদের সীমান্ত এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় কড়া নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ পারাপার বন্ধ করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর।’
রোকনপুর বিওপি কমান্ডার সুবেদার ওয়ালিদ হাসান জানান, মধ্যরাতে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, যে সীমান্ত দিয়ে তাদের ঠেলে পাঠানো হচ্ছিল, সেখানে কোনো তারবেড়া নেই। বর্তমানে ওই সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে টানা দুই দিন সীমান্তে অবস্থানের পর তাদের সীমান্ত থেকে ভারতের ভেতরে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে দুই নারীকে পুশইন করে বিএসএফ।
বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুরের লাশ হস্তান্তর
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মুজিবুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর চেকপোস্টে বিজিবি-বিএসএফের উপস্থিতিতে বাংলাদেশি পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করে ভারতীয় পুলিশ। এ সময় বিজিবি পুলিশের পাশাপাশি নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান নিহত হন। নিহতের পরিবারের দাবি, মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বিকেলে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন মুজিবুর। পরে তারা জানতে পারেন, বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। কুলাউড়া থানার পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএসএফ মুজিবুরের লাশ হস্তান্তর করেছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বলপূর্বক অনুপ্রবেশের (পুশইন) প্রচেষ্টার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) তীব্র সমালোচনা করে আসছে। কারণ, বিএসএফ কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্তে প্রায়ই বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি চালিয়ে হত্যা করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
কেকে/ এমএস