নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও মদন উপজেলায় বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুজনের এবং একটি ডোবা থেকে সন্দেহজনকভাবে বজ্রপাতে নিহত আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, ভোরে কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিগলী পশ্চিমপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে শামসুল হুদা (৪৫) নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে বাড়ির পাশের মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে টাক জাল নিয়ে মাছ ধরতে যান শামসুল হুদা। এ সময় হঠাৎ আকাশে মেঘের গর্জনের সাথে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন বিলে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান এবং সেটি শামসুল হুদার বলে শনাক্ত করেন।
অন্যদিকে, একই দিন ভোরে কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামের পেছনের ‘মরাপুড়ি’ নামক ডোবা থেকে আশরাফুল (৩৫) নামের আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশরাফুলের নিজ বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বাউচাপুর গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন আশরাফুল দীর্ঘদিন ধরে ডাউকি গ্রামে তার মামার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সকালে ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী কেন্দুয়া থানা পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
কেন্দুয়া থানা পুলিশ উভয় ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই দিন সকালে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বজ্রপাতে রাজিব মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামের সোনালী মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন ইটভাটা শ্রমিক ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন রাজিব। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেছেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।
কেকে/ এমএস