স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাংবাদিক মো. রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার ঘটনায় কুইক রেসপন্স সাপোর্ট (কিউআরএস) টিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
রোববার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১৯ জুন) রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার (২১ জুন) বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জামিন দেন। মামলাটি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের সূত্রে দায়ের করা হয়েছে। রেজানুর ইসলামের পাশাপাশি পত্রিকাটির আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
কিউআরএস মনে করে, মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার, চাঁদাবাজি বা পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা উচিত। একই সঙ্গে আমরা উদ্বিগ্ন যে, প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের প্রয়োগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনস্বার্থে সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে আইনী প্রক্রিয়ায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে গ্রেপ্তার হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের কারণে গ্রেপ্তার, আটক ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি অনিশ্চয়তার ঝুঁকি তৈরি করে। এ ধরনের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দুর্বল করতে পারে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সীমিত করতে পারে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ভূমিকা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’
কিউআরএস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন আইনি কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার পূর্ণভাবে সম্মান করা হয় এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। আমরা আরও অনুরোধ করছি যে, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ এমনভাবে নিষ্পত্তি করা হোক, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে সাংবিধানিক অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিউআরএস এই মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং বাংলাদেশে সাংবাদিকতার জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।’
কেকে/এমএ