পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলার মজিদপুর-এরালিয়া বাজার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও কাদার কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মজিদপুর-এরালিয়া বাজার সড়ক দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মজিদপুর থেকে এরালিয়া বাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। যেন এটি সড়ক নয়, ছোট ছোট পুকুর। উঠে গেছে সড়কের পিচঢালাই, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পাথর। কয়েক মাস ধরে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মজিদপুর পয়েন্ট থেকে এরালিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় অটোরিকশা থেকে পড়ে আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। বৃদ্ধ ও রোগীদের নিয়ে এ সড়কে চলাচল এখন অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন যাত্রী জানান, এটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ পথে চলাচল করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় টানা বৃষ্টিতে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সড়কে চলাচলকারী সিএনজি ও টমটম চালকরা জানান, সড়কের দুরবস্থার কারণে বড় যানবাহন কোনোভাবে চলাচল করতে পারলেও সিএনজি ও অটোরিকশা নিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর। অধিকাংশ সময় যানবাহন হেলে পড়ে। এতে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, “গত বছর মজিদপুর-এরালিয়া বাজার সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের আবেদন পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর পুনরায় অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে সড়কের মেরামতকাজ শুরু করা যাবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেবে, যাতে জনসাধারণ নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
কেকে/এলএ