ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আট নম্বর আমিরাবাদ ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ রক্ষায় সরকারি বরাদ্দে ফেলা বালু রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বালু দস্যু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ৩ মার্চ আমিরাবাদ ইউনিয়নের বড় ফেনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তলন করে নদী দখলের অপরাধে নুর উদ্দিন, নুরুজ্জামান, মহিউদ্দিন মহিন, নিজাম উদ্দিনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৫৫ জনকে আসামি করে ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এই বালু দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় বালু লুট শুরু করেছে।
নাম না প্রকাশ করা শর্তে আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতা বলেন, ইউএনও অফিসে বারবার অভিযোগ জানিয়েও বালু দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বড় ফেনী নদীর চরলামছি গ্রামের সড়কের শেষ প্রান্তে বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে নদীভাঙন থেকে আউটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হয়। নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে বেড়িবাঁধটিকে রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্থানীয় (ফাইভ লিংক) নামক নুর উদ্দিন, নুরুজ্জামান, মহিন, নিজামের এই সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে নদীর বাঁধ সুরক্ষার জন্য রাখা বালু স্কেভেটর (যন্ত্র) ব্যবহার করে বালুগুলো ড্রাম ট্রাকে করে লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেড়িবাঁধ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফোনে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পর প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও বালু লুট বন্ধ হয়নি। ফলে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ পানিতেই যাচ্ছে।
গ্রামের শামসুদ্দীন জানান, সরকার আউটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ও বালু বরাট করেছিলো। এই বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে এর আগে মামলাও হয়েছিল। তাদের কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। আমরা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। বেড়িবাঁধ রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে ফেলানো বালু বালু দস্যুরা তুলে লুট করে নিয়ে গেছে। বালু নিয়ে যাওয়ার কারণে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই গ্রামের হাজারো বাড়িঘর, হাট বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ মন্দির নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বালু লুটের সাথে জড়িতদের সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এ নিয়ে পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, ‘বালু লুটের বিষয়টি দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে বলবো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এর আগে এই বালু দস্যু ও নদী দখলের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারজান হোসাইন বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। বালু লুটের বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে আমিরাবাদ ইউনিয়ন থেকে রাতে মোবাইলে জানানো হয়েছিলো, পুলিশ ও আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত বালু দস্যু ও বালু লুটকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার জানা মতে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা হয়েছে।’
কেকে/এমএ