দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং তিস্তা প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে।
বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান চীনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সংযোগ জোরদারের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। গত এক দশকে চীনা সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এসেছে এবং চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এ সময়ে অবকাঠামো, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে ঢাকা-বেইজিং সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী খাতে চীনা বিনিয়োগের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, শিল্প স্থানান্তর এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ চুক্তিসমূহ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম চীন সফর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন দুয়ার খুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৭টি দলিল চীনের সঙ্গে স্বাক্ষর হবে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং আরেকটি প্রটোকল।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সেগুলোতে যোগদানের বিষয় বিবেচনা করছে। এ চার উদ্যোগ হচ্ছে— বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ। তবে সফরের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনা অর্থায়নের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। একটা স্টাডি হয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাই পুনঃপর্যালোচনা করেছি। কিন্তু রিজার্ভার, ড্যামেজ সাইজ— এগুলো আসলে তারপর সমস্ত বিষয় আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, জ্বালানি সহযোগিতা, চীনা শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলো আলোচনার এজেন্ডায় আছে।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মুক্তবাণিজ্য জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি), ব্রিকস এবং অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে। এছাড়া চীনের অর্থায়ন ও সহায়তায় বাংলাদেশে যেসব বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
চীন বাংলাদেশের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ চীনা বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি প্রযুক্তি, সবুজ উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে নতুন শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও উচ্চতর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছে সরকার।
বাংলাদেশের কাছে চীনের প্রত্যাশা সম্পর্কে বেইজিংয়ে নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার হবে এবং দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব নতুন মাত্রা পাবে। একইসঙ্গে উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময় ও বহুপাক্ষিক সমন্বয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার আশা করছে বেইজিং। চীনের লক্ষ্য, দুই দেশের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’কে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, চীনে এসে তিনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থেকে বর্তমানে বহুপাক্ষিক বিষয় নিয়ে উপস্থিত বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। তিনি জানান, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি দেশের বাইরে প্রথম কোনো বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও আলোইস জুইংগি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে, দেশের মানুষকে অগ্রযাত্রার পথে ধাবিত করতে পারবে, সেগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করা হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ শিল্পের বিকাশে পাটশিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভেহিকেল চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।’
প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
আজ বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অন্যান্য বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পলিসি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন। আগামীকাল দুপুরবেলা দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে একটি হাই-স্পিড ট্রেনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের উদ্দেশ্যে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম মনে করেন, বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে উন্নত প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তার ভাষ্য, দেশের খনিজ সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো গেলে খনিজভিত্তিক শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
তিনি বলেন, ন্যানো ফাইবার উৎপাদন শিল্প, চীনা চিকিৎসা পদ্ধতিভিত্তিক বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে নতুন পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মতো উদ্যোগ দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এসব উদ্যোগ শিল্প খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মতে, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি। বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম, যার ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি চীনের বিভিন্ন শহরে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে অন্তত ৩০টি স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, এসব কেন্দ্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, সিরামিক সামগ্রী এবং হালকা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন পণ্য বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
তার দাবি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন বছরের মধ্যে চীনের বাজারে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কেকে/এলএ