বাংলা কবিতার দুই প্রথিতযশা কবি ও সাহিত্যিক আহসান হাবীব এবং মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সাহিত্যকর্ম, চিন্তাধারা ও বাংলা সাহিত্যে তাদের অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণসভা ও সেমিনার।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে বাংলা একাডেমি ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ আয়োজনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. এ. কে. এম. কুতুবউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শারমিন আক্তার।
সকালে অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে কবি ও সাহিত্যিক আহসান হাবীবকে স্মরণ করা হয়। এ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায়। ‘রেডরোডে রাত্রিশেষ থেকে বিদীর্ণ দর্পণেও আশাবাদ: আহসান হাবীবের কাব্যযাত্রা (১৯৪৭-১৯৮৫)’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক তুষার দাশ। প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর রহমান, কবি ও শিশুসাহিত্যিক তপংকর চক্রবর্তী এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার।
দুপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে স্মরণ করা হয় কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে। এ অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা নাজনীন। ‘কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: প্রসঙ্গ জাতীয় চৈতন্যের অন্বেষণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মাদ সাকিবুল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বিশেষজ্ঞ ড. কুদরত-ই-হুদা এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাসিনা হোসাইন।
আলোচকরা বলেন, “আহসান হাবীব ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বাংলা কবিতার দুই ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্ব করলেও তাদের সাহিত্যচর্চার কেন্দ্রে ছিল দেশ, মানুষ ও সমাজবাস্তবতা। নিজস্ব কাব্যভাষা ও শিল্পরীতির মাধ্যমে তারা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং পাঠকের সঙ্গে কবিতার একটি গভীর সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।’’
বক্তারা আরও বলেন, “বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশের স্বার্থে এই দুই কবির সাহিত্যকর্মকে নতুনভাবে মূল্যায়ন ও গবেষণার আওতায় আনতে হবে।’’
একই সঙ্গে তাদের সৃষ্টিকর্মকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাহিত্য অনুরাগী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।
কেকে/এলএ