মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় থামেনি ইসরাইলের হামলা, বাড়ছে হতাহত      জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থবিল-২০২৬      লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষ পানিবন্ধি      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু      এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব      ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’      একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই      
দেশজুড়ে
পাটগামে নদ-নদী ও জলাশয়ে দুয়ারি জাল : বিপন্ন দেশীয় মাছ, পরিবেশ বিপর্যয়
ইফতেখার আহাম্মেদ, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম আপডেট: ২৮.০৬.২০২৬ ৭:৩৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে মাছ ধরার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল বা কারেন্ট জালের ব্যবহার। অবাধে যত্রতত্র এ জালের ব্যবহারের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ কীটপতঙ্গ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

চায়না দুয়ারি নামের সূক্ষ্ম ফাঁসের এ জালে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা মাছ, ব্যাঙ, শামুক ও কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তিস্তা, সানিয়াজান, ধরলা ও সিঙ্গিমারী নদী অববাহিকা অঞ্চলের পাটগ্রাম পৌরসভা ও পাটগ্রাম ইউনিয়ন, বাউরা ইউনিয়নের, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট ও জগতবেড় ইউনিয়নের, বড়বাড়ি, সিঁচারদোলা, পঁচাভান্ডার, জোংড়া ইউনিয়নের সরকারেরহাট, ডাংগীরপার, কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের ললিতারহাট, দহগ্রামসহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ তিস্তা অববাহিকা এলাকায় কয়েক হাজার চায়না দুয়ারি জাল স্থাপন করা হয়েছে। কৃষিজমি, খাল-বিল ও জলাবদ্ধ এলাকায় সারিবদ্ধভাবে এসব জাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ জালের বিরুদ্ধে পাটগ্রাম উপজেলায় তেমন কোন অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এসব জাল ব্যবহারকারী ও বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। 
 
সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। 

তারা অবিলম্বে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের নজরদারি বাড়িয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পাটগ্রাম ইউনিয়নের সাহেব ডাঙ্গার মামুন মিয়া বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বর্ষা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির মাছ পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর পাওয়া যায় না। ব্যবস্থা না নিলে বিলুপ্তি হয়ে যাবে দেশীয় মাছ।’

মৎস্য ব্যবসায়ী ও চাষ সংশ্লিষ্টদের মতে, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ক্ষতিকর ও অবৈধ জালের ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এ ধরনের জালের ব্যবহার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই অভিযান চালাব। তবে লোকবল সংকট, বরাদ্দ কম ও পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তা লাগে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে চাইলেও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।’ 

কেকে/এমএ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close