নীলফামারীতে উজানের ঢলে বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এর আগে রোববার রাত ৮টায় একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টায় তিস্তার পানি সর্বোচ্চ বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এরপর থেকেই পানি কমতে থাকে। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমা বরাবর ছিল। পরে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। তবে পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় এসব এলাকা থেকে ইতোমধ্যে বন্যার পানি নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে রোববার গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ছিল। তবে সোমবার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পানি নেমে গেছে। স্বল্প সময়ের জন্য পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি জানান।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রোববার রাত পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।”
কেকে/ এমএস