সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদনের অভিযোগে তিনটি খোলা ভাট্টির ছয়টি চুল্লি গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে কাউকে আটক করা না গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালিত হয়। সাভারের ভাকুর্তা এলাকার নির্জন স্থানে পরিচালিত ওই অভিযানে তিনটি নামবিহীন খোলা ভাট্টির ছয়টি চুল্লি এক্সকাভেটরের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেয় সাভার থানা পুলিশ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে কাউকে গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। তবে পুনরায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—স্থানীয়ভাবে কেউ জড়িতদের পরিচয় দিতে চান না।
অনুসন্ধানে অবৈধ সীসা উৎপাদনের সঙ্গে কয়েকটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ধোলাইপাড়ের নাসির ও গাইবান্ধার সাজুর নেতৃত্বাধীন চক্রের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে খোলা স্থানে পুড়িয়ে উৎপাদিত সীসা কালোবাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। সরকারকে কোনো ভ্যাট বা কর না দেওয়ায় তাদের লাভও বেশি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির বলেন, ‘দেশে অনেকেই এভাবে কাজ করে, শুধু আমরাই না।’ এটি বেআইনি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেআইনি বলেই তো সরকারি লোকজন এসে উচ্ছেদ করেছে।’
অন্যদিকে গাইবান্ধার সাজুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উচ্ছেদ হওয়া ভাট্টিগুলো নাসিরের।
চিকিৎসকদের মতে, খোলা স্থানে পুরোনো ব্যাটারি বা সীসা পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
বর্তমানে সরকার অনুমোদিত কয়েকটি ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প-কারখানায় পরিবেশসম্মত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরোনো ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। তবে অবৈধ সীসা পোড়ানো চক্রের কারণে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ সীসা পোড়ানোর খোলা ভাট্টি নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মোবাইল কোর্টের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
কেকে/ এমএস