বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা      ৩৫৭ টাকা কমিয়ে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু      তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত      প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই      আজ শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা      প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ      
বিনোদন
কাঁদতে কাঁদতে ভোট চাইলেন আনোয়ারা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই এক নতুন উত্তেজনা, প্যানেলে প্যানেলে লড়াই আর উৎসবের আমেজ। তবে এবারের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সব আলোচনা আর প্রচারণাকে ছাপিয়ে গেছে একটি মাতৃত্বের আবেগ ও অশ্রু। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের জীবনের শেষ ইচ্ছা তার কন্যা রুমানা ইসলাম মুক্তি যেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে শিল্পীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

‘চাঁদের আলো’ ও ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ খ্যাত নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি দীর্ঘদিন রূপালি পর্দা থেকে দূরে থাকলেও সবসময় এফডিসির শিল্পীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। বর্তমানে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুক্তি এবার সরাসরি আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন।


বুধবার (১ জুলাই) রাতে আরমান-মুক্তি পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা, যা পরে রূপ নেয় এক আবেগঘন মুহূর্তে। আনোয়ারা বেগম মুক্তির জন্য ভোট চাইতে এসে প্রকাশ্যেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

জানা গেছে, মুক্তি নিজে থেকে এই নির্বাচনে আসতে চাননি; বরং তার মা আনোয়ারার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, সাধারণ সদস্যদের আগ্রহ ও মায়ের স্বপ্নপূরণ করতেই তিনি এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে পর্দার আড়ালে থাকা এই মায়ের একটাই চাওয়া তার মেয়ে যেন চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতে পারে।

প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানের মঞ্চে যখন আনোয়ারাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইক্রোফোন দেওয়া হয়, তখন তিনি পুরোনো দিনের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এফডিসির সঙ্গে তার জীবনের বহু বছরের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে মেয়ের জন্য সবার কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করার সময় তিনি আর নিজের কান্না চেপে রাখতে পারেননি। 

তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন এবং বলেন, ‘আমার মেয়ে আপনাদেরই বোন, মেয়ে ও সহকর্মী। ও আমার স্বপ্নপূরণ করতে এখানে এসেছে। আপনাদের জন্য কাজ করতে চায়। আপনারা ওকে ফিরিয়ে দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অস্তিত্ব আমার মেয়ে। মুক্তি শিল্পীদের জন্য কতটা উপযুক্ত তা আপনারা নিশ্চয়ই মুক্তির কাজের মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রমাণ পেয়েছেন। আশা করি, আমার শিল্পী সমিতির ভালোবাসার মানুষেরা মুক্তিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। সবাই আরমান-মুক্তি প্যানেলের সঙ্গে থাকবেন। আমার মেয়েকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। আমার মেয়ের বিজয় মানে আমার বিজয়। মুক্তি হারলে আমি হেরে যাবো। তাই আমার প্রাণের শিল্পীরা আমার সম্মান রাখবেন।’

আনোয়ারা এখন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। বয়সের ভারে আগের মতো এফডিসিতে নিয়মিত আসতে না পারলেও মেয়ের জন্য তার মন পড়ে রয়েছে চলচ্চিত্রের আঙিনায়। মেয়ের নির্বাচনি প্রচারণা ও তার প্রতি সহকর্মীদের ভালোবাসা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই অভিনেত্রী।

চলচ্চিত্রের মানুষদের কাছে নিজের মেয়ের জন্য ভোট ও দোয়া চাইতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন আনোয়ারা। 

তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের মানুষরাই তার আসল পরিবার। আর এই পরিবারের কল্যাণে তার মেয়ে মুক্তি যেন আজীবন কাজ করে যেতে পারে, সেটাই তার জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা। একজন মায়ের এই কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে ঢাকাই সিনেমার তারকারাও।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন   অভিনেত্রী আনোয়ারা   অভিনেত্রী মুক্তি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close