ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আলাল মোল্লা (৩০)। তিন বছরের মেয়ের জন্য নতুন পোশাক, স্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটানো আর বৃদ্ধ মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। বাড়ি ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।
আলাল মোল্লা উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী ছোট ভাই, স্ত্রী মিমি খাতুন ও তিন বছরের কন্যাসন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।
স্বজনেরা জানান, ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার জন্য সামান্য ভাড়া বাঁচাতে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে একটি রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন আলম। গত ২৫ মে ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার সরাতৈল এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আলালসহ কয়েকজন যাত্রী।
সম্প্রতি আলালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের কৃষি খামারের খুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকে পরিবারটি। ছোট্ট মেয়েটি এখনো বাবার ফেরার অপেক্ষায়। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী মিমি খাতুন। বৃদ্ধ মা বারবার ছেলের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মিমি খাতুন বলেন, ওই মানুষটাই ছিল আমাদের সব। সংসার চালানো থেকে মেয়ের ভবিষ্যৎ, সবকিছুই ওকে ঘিরে ছিল। ঈদের আগেদিন ডু সামথিং ফাউন্ডেশন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। কর্ম ছাড়া অসুস্থ বৃদ্ধ শাশুড়ী, প্রতিবন্ধী দেবর ও মেয়েকে নিয়ে এখন আমরা কীভাবে চলব, জানি না।
গোপালপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আলালের সামান্য উপার্জনেই সংসার চলতো। দিনমজুরির কাজ করে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তা দেখবো। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।
কেকে/ এমএস