বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: মিলেমিশে চলছে চাঁদাবাজি      ঝুঁকি নিয়ে বসবাস      ষড়যন্ত্রের ফাঁদে শিক্ষার্থীরা      শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে রাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন      বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর      সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া      প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সংসদ ভবনে জরুরি বৈঠক      
খোলাকাগজ স্পেশাল
মিলেমিশে চলছে চাঁদাবাজি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পরিবহন খাত, এমনকি শিল্পকারখানার মালিকদের কাছেও নিয়মিত চাঁদা দাবি করছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। এসব সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে। এমনকি থানা-পুলিশও এসব চক্রকে অনেকটা সরাসরি মদদ দিচ্ছে। দেশজুড়ে যেন মিলেমিশে চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে।

এদিকে, দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলেই প্রকাশ্যে হামলা, ভাঙচুর ও গোলাগুলি করা হচ্ছে। এর রেশ ধরে অনেক জায়গায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে, কোথাও বাসাবাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে গুলি। কোনো কোনো ঘটনায় প্রাণও দিতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। দেশজুড়ে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজি বাড়লেও এখন তা যেন মহামারিতে রূপ নিয়েছে।

মার্কেট দখল নিয়ে গুলিস্তানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ :

গত ৪ জুলাই রাজধানীর গুলিস্তানে একটি মার্কেট দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ হয়। এতে ১৫-২০ জন আহত হন বলে জামায়াত দাবি করে। জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন জানান, বিএনপির সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অব্যাহত রেখেছে। কিছুদিন আগে তারা নগর প্লাজা মার্কেটে তালা লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়। সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা ভাঙচুর করে, কম্পিউটার নিয়ে যায়। তখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা তাদের পাশে দাঁড়ান।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে ফুলবাড়িয়ার বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সেখানে ব্যবসায়ীরা জড়ো হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুরি, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। এতে ১৫-২০ জন ব্যবসায়ী ও জামায়াতের নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাতও করা হয়।

হামলার বিষয়ে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন বলেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে বসে ছিলেন। আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে প্রায় প্রতিদিনই তারা মিছিল করেন। হঠাৎ জামায়াত ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে বলে শুনি। পরে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে যায়। মার্কেট দখলের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শ্রম অধিদপ্তর থেকে সরকারিভাবে মার্কেট পরিচালনায় পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেয় না। পরে যুবদল নেতা রনজু দলীয় লোকজন নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনকে বসিয়ে দিয়েছেন, পুলিশও ছিল। সরকারি দল হিসেবে সরকারি আদেশ মানা তো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামে একের পর এক প্রকাশ্যে হামলা :

চাঁদা না পেয়ে বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের দৃশ্য একসময় বাংলা সিনেমার পর্দাতেই বেশি দেখা যেত। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলবল নিয়ে হামলা কিংবা গুলি—সিনেমার সেই দৃশ্য এখন চট্টগ্রামে বাস্তব হয়ে উঠছে। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঘটনায় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। নগরের ফুটপাত থেকে শুরু করে গণপরিবহন, পণ্যবাহী গাড়ি, নির্মাণকাজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা—সবখানেই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার করে সক্রিয় রয়েছে একাধিক চক্র। ফুটপাতে দোকান বসাতে, গাড়ি চালাতে কিংবা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে দিতে হচ্ছে কথিত ‘লাইন খরচ’ বা মাসিক চাঁদা। চাঁদার অঙ্কও নির্ধারণ করে দিচ্ছে সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে বিদেশি নম্বর কিংবা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরপর বেঁধে দেওয়া হচ্ছে সময়। টাকা না পৌঁছালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং গুলির ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। ফলে চাঁদাবাজির বড় একটি অংশ থেকে যাচ্ছে আড়ালে।

পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম নগরী এবং জেলার রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায় সংঘটিত বেশ কিছু চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একসময় বড় সাজ্জাদের হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’ এবং মোহাম্মদ রায়হান চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশের ভাষ্য। এর মধ্যে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে একের পর এক ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দিলে গুলি ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। অথচ একাধিক মামলার আসামি এই সন্ত্রাসীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সর্বশেষ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ হামলার মাত্র দুই দিন আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) ‘ডেভিড ইমন’ বা মোবারক হোসেন ইমন পরিচয়ে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোনে তার কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডে ডেভিড ইমন পরিচয়ে ডিডিএনের মালিককে করা ফোনে বলতে শোনা যায়, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে।’ একই সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের কাছে নিজের পরিচয় যাচাই করতে বলার পাশাপাশি স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসায় হামলার ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে হুমকি দেওয়া হয়।

এই হুমকির মাত্র দুই দিনের মাথায় ডিডিএন কার্যালয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে সিনেমার কায়দায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বন্ধ রাখার হুমকিও দিয়ে যায় বলে অভিযোগ। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ডেভিড ইমন পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘মোবারক হোসেন ইমন বা ডেভিড ইমন একজন পলাতক সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ড সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। কল রেকর্ডটি ডেভিড ইমনের নাকি অন্য কারও, তা যাচাই করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেভিড ইমন আত্মগোপনে থেকে পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে নানা কথা বলতে পারে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।’

তবে ডেভিড ইমন বা মোবারক হোসেন ইমন পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষকে ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সোমবার যে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২ জানুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। গুলি বাসার জানালার কাচ ও দরজায় লাগে। মোবাইল ফোনে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে সে সময় দাবি করেছিলেন ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। ঘটনার পর বাসাটিতে পুলিশি পাহারা বসানো হয়। কিন্তু পুলিশি পাহারা থাকা অবস্থায়ও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ওঠে, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে। পরপর দুই দফা গুলির ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু ব্যবসায়ী বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক নন, সাংবাদিকের কাছেও চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। গত ৯ মে বিপ্লব দে পার্থ নামে এক সাংবাদিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ‘ডেভিড ইমন’ বা মোবারক হোসেন ইমন পরিচয়ে তাকে ফোন করে টাকা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই সাংবাদিক।

এর আগে গত বছরের ২০ আগস্ট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হাটহাজারী উপজেলার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

গত ২০ জুন দুপুরে নগরের চান্দগাঁও থানাধীন ‘ইউনেস্কো’ পোশাক কারখানার সামনে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পাঁচজনের একটি দল। চাঁদা না পেয়ে ভয় দেখাতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবক কারখানার সামনে থেকে সড়কের দিকে এগিয়ে আসছেন। পাশ দিয়ে সাধারণ পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার মধ্যেই তিনি প্যান্টের পেছনের অংশ থেকে একটি পিস্তল বের করে কারখানার দিকে তাক করে গুলি ছোড়েন।

একের পর এক এসব ঘটনায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, ফোনে চাঁদা দাবির পর প্রকাশ্যে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীরা কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তারের দাবি থাকলেও চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য কমছে না।

মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি তিনি।

পুলিশের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ইমনের নিয়ন্ত্রণে বা ব্যবহারে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ বলেও পুলিশের দাবি। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ওপর ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দুজন নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশের দাবি। তাদের একজন মোবারক হোসেন ইমন। এর আগে দেশে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয়। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন তার হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

গাইবান্ধায় বাজার দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একটি বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও সহিংস রূপ নিয়েছে। গত ১১ জুন বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌর শহরের ছোট শিমুলতলা পানহাটিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সাতক্ষীরায় খাল দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

গত ৫ জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি খালের দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৩ জন আহত হন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  চাঁদাবাজি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close