লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমড়ীরহাট থেকে ইউনিয়ন পরিষদগামী একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পাশের নদীতে বিলীন হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। এ বিষয়ে ‘দৈনিক খোলা কাগজ’ পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি পরিদর্শন করে সংস্কারকাজের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ ও প্রাক্কলন (স্টিমেট) তৈরির কাজ শুরু করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শনে যায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রতিনিধিদল। তারা ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতেও একাধিকবার সড়কটি পরিমাপ ও পরিদর্শন করা হলেও বাস্তবে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এবার দ্রুত সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে জিওব্যাগ বা বোল্ডার ফেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক জানান, সড়কটির প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে। এরপর ঊর্ধ্বতন একটি টিম সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করবে। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রস্তাব রংপুরে পাঠানো হবে এবং অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে।
কেকে/ এমএস