খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সদস্য, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা জোনের পরিচালক মাওলানা আহমদ বিলাল বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হলে ফ্যাসিবাদের দোসররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের শাহ মোস্তফা রোডস্থ মৌলভীবাজার খেলাফত মজলিসের জেলা শাখা কার্যালয়ের সামনে গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে কোনো প্রকার টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার এবং পলাতক দণ্ডিতদের রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
জুলাই গণহত্যার বিচার অবিলম্বে কার্যকর এবং গণভোটের রায়ের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ করেছে খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখা। সংগঠনের কেন্দ্রঘোষিত জুলাই মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান, মো. মুহিবুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালিক, জেলা সহ-সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুকিত মামুন, খেলাফত মজলিস শহর সভাপতি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ, ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মো. এহসানুল হক, ইসলামী ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার শহর সভাপতি সালমান আহমেদ, জেলা সভাপতি আহমদ কবির, খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার সদর উপজেলা সভাপতি মুফতি ইব্রাহিম খলিল, রাজনগর উপজেলা সভাপতি ও ইউপি সদস্য মাওলানা কাওসার আহমদ তালুকদার, কমলগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মুফতি মাওলানা শামছুল ইসলাম লিয়াকত, কুলাউড়া উপজেলা সভাপতি আ. খ. ম. শাহিন চৌধুরী, শমশেরনগর শাখা সভাপতি মাওলানা শাহ লুৎফুর রশিদ এবং শহর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ হেলাল প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে জুলাই সনদ করা হয়। এরপর গণভোট হলে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার টালবাহানা শুরু করছে। জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানির জন্য প্রয়োজনে আমরা আরেকটি আন্দোলন গড়ে তুলব। যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’
বক্তারা সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় উপকারভোগী হওয়া সত্ত্বেও গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছেন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছেন। স্বাক্ষর দিয়েও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করা জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি শাহ মোস্তফা রোড থেকে শুরু হয়ে কোর্ট রোড ও চৌমুহনা হয়ে সেন্ট্রাল রোডস্থ এমবি'র সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে খেলাফত মজলিস, ইসলামী যুব মজলিস, ইসলামী ছাত্র মজলিস ও শ্রমিক মজলিসের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।
কেকে/এমএস