২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৬৫ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে সাত ধরনের সবজি বীজ—লাউ, শসা, পুঁইশাক, কলমিশাক, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন ও চাল কুমড়ার বীজের পাশাপাশি ১৫ কেজি ডিএপি এবং ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৭৩০ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, জৈব সার এবং গাছ রোপণের জন্য খুঁটি বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৩৫ জন কৃষকের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে ৫ কেজি করে উফশী আমন ধানের বীজ (বিআর-২২) বিতরণ করা হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরে যেতে পারেন।
প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সবজির বীজ পাওয়া আদর্শ গ্রামের কৃষক মো. আবদুল মাজিদ বলেন, সরকারের দেওয়া বীজ ও সার আমাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এতে স্বল্প খরচে সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বিক্রি করে আয়ও করা যাবে।
ফাক্রিকাটার কৃষক মো. হানিফ বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি। এ ধরনের প্রণোদনা কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করবে এবং কৃষি খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ফুইট্রাঝিরির কৃষক ছুরুত আলম বলেন, সময়ে বীজ ও সার পাওয়ায় আমরা মৌসুমি সবজি চাষে লাভবান হওয়ার আশা করছি। সরকার কৃষকের পাশে থাকায় আমরা নতুন করে চাষাবাদে উৎসাহ পাচ্ছি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চারা পাওয়া বিছামারার কৃষক মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, ফলজ ও বনজ গাছ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে। এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
মসজিদ ঘোনার কৃষক মো. কলিম উল্লাহ বলেন, গাছের চারা, জৈব সার ও খুঁটি একসঙ্গে পাওয়ায় চারা রোপণ ও পরিচর্যা সহজ হবে। এতে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ আরও বাড়বে।
চাক হ্যাডমেন পাড়ার কৃষক এথোয়াই চক বলেন, বনাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায় বেশি বেশি গাছ লাগানো প্রয়োজন। সরকারের এ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও উফশী আমন ধানের বীজ পাওয়া আদর্শ গ্রামের মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, বন্যায় আমাদের বীজতলা ও জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের দেওয়া ধানের বীজ আবারও চাষাবাদ শুরু করতে সহায়তা করবে।
ধুংরী হ্যাডমেন পাড়ার মং শৈথুই মার্মা বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই সহায়তা খুবই প্রয়োজন ছিল। সময়মতো বীজ পাওয়ায় আমরা নতুন করে আমন আবাদ করতে পারব।
বিছামারার কৃষক মো. নুরুল হাকিম বলেন, প্রণোদনার এই ধানবীজ আমাদের বড় ধরনের আর্থিক চাপ কমিয়েছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এসব প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সঠিক কৃষকদের মাঝে স্বচ্ছতার সঙ্গে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
কেকে/ এমএস