মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্সের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রতারণার মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নার্স মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম রুমান হোসেন (২৮)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার ডৌয়াতলা গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, ২০২১ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রুমান হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাময়িক যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের শেষের দিকে রুমান পুনরায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। পারিবারিক ঋণ শোধের কথা বলে রুমান বিভিন্ন দফায় তার কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার রুমানকে নগদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৪ বারে সর্বমোট ৮ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর মধ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুমান তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, চলতি বছরের মার্চে বিয়ের কথা বলে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন রুমান; কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিয়ে না করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত ও বিয়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য চাপ দিলে রুমান নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি বছরের ৫ জুন বিয়ের দিন ধার্য করা হলেও সেদিন রুমান বা তার পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত হননি। ঘটনার পর থেকে রুমান তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘আমরা রুমানের স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রুমান হোসেন পূর্বে থেকেই বিবাহিত এবং তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মূলত আমার মেয়ের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল। আমরা এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রুমান হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস