শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: মরক্কো থেকে স্পেনের দিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীর ঢল, নিহত ১৫      বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ৩৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আট      সরকার দেশের সুগার মিলগুলোকে লাভজনক করার চিন্তা করছে: রিজভী      এডিপি বাস্তবায়ন ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৬৭.৫২ শতাংশ      ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না হাসিনা      জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন হবে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা      রাজনীতিবিদদের বক্তব্য সংযত রাখতে আইন করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের      
দেশজুড়ে
খানাখন্দে নাজেহাল লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক, প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা
ইলিয়াস বসুনিয়া পবন, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

উত্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক এখন যেন এক দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ পথ। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত এখন বড় আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক এবং সওজ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের প্রায় ৩০টি পয়েন্টে বড় ধরনের খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম এবং বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দরসংলগ্ন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক স্থানে যানবাহনকে গতি কমিয়ে একপাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট এবং সময় নষ্ট হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি।

প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেলসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ভারত ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার বুড়িমারী স্থলবন্দরেও এই সড়কই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় বাড়ছে, পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ট্রাকচালকরা জানান, বড় বড় গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় বিপরীত লেনে চলে যেতে হয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। রাতের বেলায় কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তগুলো বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই সড়কে এখন স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। দুর্ঘটনার কথা ভেবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলতে হয়। এতে নির্ধারিত সময়সূচি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। আমি দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ট্রাক চালাই, কিন্তু লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের মতো বেহালদশার সড়ক কোথাও দেখতে পাই না। কোনদিনই এই মহাসড়কের তেমন কোনো উন্নতি দেখি নাই।”

আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ খান জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। সড়কের কারণে অনেক ট্রাক বিকল হচ্ছে। যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, জ্বালানি খরচও বেড়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ছে। মহাসড়কের নাজেহাল অবস্থা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে নাজেহাল করছে। এতে আমরা অর্থনীতিতে বিশেষ ধাক্কা খাচ্ছি।

হাতীবান্ধা এলাকার মোটরসাইকেল আরোহী শরিফ মোল্লা জানান, ছোট যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার জন্য এই সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে আহত হচ্ছেন। মাঝে-মধ্যে ইটের খোয়া বা নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

পাটগ্রামের ট্রাক মালিক জুলফিকার আলী বলেন, “এই মহাসড়ক উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য, পাথর, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল এই সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সারাবছরই মহাসড়কটিতে কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মহাসড়কটির অবস্থা বেহাল হয়।”

বুড়িমারী স্থলবন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস (সি অ্যান্ড এফ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, সীমান্ত বাণিজ্য এবং লাখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের বিকল্প নেই। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে এবং এর অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে থাকবে।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কটি নিয়মিত মেরামত করা হলেও পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে তা বেশি টিকে না। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে প্রতিটি ট্রাকে ৪০ থেকে ৫০ টন পাথর পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৫০০টি পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করে। বিশেষ করে ডাম্প ট্রাকগুলো বেশি ক্ষতি করছে।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, “গেল অর্থবছরে সড়কটি মেরামতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি বরাদ্দের টাকা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার শুরু করা হবে। আমরা কোনোভাবেই সড়কের ওপর দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। সড়কটি মজবুতিকরণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। যতদিন পর্যন্ত সড়কটি মজবুতিকরণ করা না হবে, ততদিন এই মহাসড়কে দুর্ভোগ লেগেই থাকবে।”

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close