জুলাই অভ্যুত্থানে নিজের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার মিডিয়া ইন্টার অ্যাকশনে তার ও সহযোগীদের বক্তব্য দেখে ও শুনে আমাদের উপলব্ধি হয়েছে হাসিনা হাসিনার মতোই আছেন, কোনো পরিবর্তন নেই। তার দোসর, চেলাচামুণ্ডাগুলোও একই রকম আছে, কোনো পরিবর্তন হয়নি তাদের কারও। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয় মোটেও, কোনো অনুশোচনা নেই তাদের মধ্য।
শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতের আশ্রয়ে আছেন। এত মানুষ হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া হাসিনার সুবিধাটা হলো, তার একটা বন্ধু রাষ্ট্র আছে, যে তাকে খুন করে পালানোর পরেও এমন মিডিয়া ইন্টার অ্যাকশনের আয়োজন করে দেয়, যেটা রয়টার্সের মূল ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সম্প্রচার হয়। এমন একটা রাষ্ট্র-বন্ধু থাকার মজাই আলাদা। এ মজার মাজেজা, মিডিয়াবিমুখ এবং মিডিয়া-দুর্বল বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না এখনো; আগামীতে যখন বুঝতে পারবে, তখন সময় থাকবে না। নানা ধরনের ভুয়া এবং আসল সংস্থা, মিডিয়া ও ব্যক্তিবর্গ আগামী দিনগুলোতে বিএনপি সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলবে সারা দুনিয়াজুড়ে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে তৈরি এক অদ্ভুত অল্টারনেটিভ ইউনিভার্স তৈরি করে। এটা সুনিশ্চিত।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনাসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রচার বন্ধ করে রাখা যেতে পারে, কিন্তু বিদেশে বন্ধ করা যাবে না। বরং তাদের এ দেশবিরোধী তৎপরতার জবাবে পাল্টা বিদেশি এবং ইংরেজি মিডিয়া/কন্টেন্ট তৈরি করে প্রচারমাধ্যমে না দিতে পারলে পস্তাতে হবে বিএনপি সরকারকে। সম্প্রতি দিল্লিতে মিডিয়া ইন্টার অ্যাকশনে দেওয়া শেখ হাসিনার পুরো বক্তব্য ভুল ন্যারেটিভ এবং মিথ্যায় ভরা। এগুলোর জবাব বিদেশের মিডিয়াতে ঠিকমতো না দিলে, এক সময় সেগুলো বাইরের মানুষ বিশ্বাস করবে।
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার এবং তার বন্ধু রাষ্ট্রের নতুন কোনো আইডিয়া নেই। তারা সেই ৩০ বছরের পুরোনো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধ এগুলো নিয়েই তাদের ভবিষ্যৎ সাজাবে। আপাতত প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস এবং ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের শেখ হাসিনা ও তার রাষ্ট্র-বন্ধু দোষারোপ করছে, তারেক রহমানকে জাস্ট একটু স্পেস দেওয়ার জন্য। তবে খুব বেশি দিন থাকবে না এ স্পেস। বড়জোর আগামী ছয় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তার পৃষ্ঠপোষক ভারত সরকার যে বয়ান ছাড়বে, সেটাতে তারেক রহমান, শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম সবাই হয়ে যাবে সন্ত্রাসবাদের ধারক ও বাহক এবং রাষ্ট্র-বন্ধুর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টিকারী। থামাতে যা কিছু করার দরকার, হাসিনার রাষ্ট্র-বন্ধু সেটা করবে।
বিএনপি সরকারের ডিফল্ট কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি হচ্ছে ‘নো কমিউনিকেশন’। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সেই রীতি ভেঙে একটা অসাধারণ নোট পাঠানো হয়েছে ভারতকে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এ নোটের মতো পপুলার কোনো নোট এর আগে কখনো লেখা হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। আমরা আশা করি, এ নোটের সফলতা লক্ষ্য করে তারেক রহমান তার দলের কেন্দ্রীয় বলয় থেকে হাসিনার রাষ্ট্র-বন্ধুর বন্ধুদের সরানোর কাজটি শুরু করবেন। তারেক রহমানের বিএনপিকে বেঁচে থাকতে হবে একটা মধ্য-ডানপন্থি দল হিসেবে, বাদবাকি হাসিনাবিরোধী মধ্য এবং ডানপন্থিদের গ্রুপ-নেতা হিসেবে। এর বাইরে তারেক রহমানের কোনো রাজনীতি করার আর সুযোগ নেই দিল্লির নাট্যমঞ্চে ৫ আগস্টের এ সিরিয়াস নাটক মঞ্চায়ন সম্পন্ন হবার পর।
দিল্লি তার লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছে। এতদিন একটা লুকোচুরি খেলা খেলেছে, এখন সেই আড়াল ভেঙে স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ তীব্র ক্ষুব্ধ যে, পলাতক ও দণ্ডিত গণহত্যার আসামি শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ আলাপচারিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি ও তার অনুচরেরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও তার জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ কটূক্তি করেছেন।
ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলছে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনের ওপর এ ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে পূর্বেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এ প্রকাশ্য সভাটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেদিন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এ আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি একটি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি একটি গুরুতর অপমান।
জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তথ্য, যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদী শাসনের দ্বারা নাবালক শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত, তা অস্বীকার করা পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার অপরাধী সহযোগীদের দ্বারা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি নিষ্ফল প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা অব্যাহত রেখেছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমাদের জনগণ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে, আমাদের জাতি আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো একটি করদ রাষ্ট্র হবে না।
দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার মাফিয়া চক্রের কোনো স্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় থাকবে না। বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে লাভজনক এবং প্রগতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক।
দুর্ভাগ্যবশত, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারবার করা অনুরোধের এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। বরং, যে কোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়াটা আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হানে এবং যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতার ছক কষছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা। দিল্লির লুটিয়েন্স জোনের সুরক্ষিত এলাকায় ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনার নির্দেশে এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বহুমুখী নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা। দিল্লিতে তার বাসায় দুই দফা বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। (লেখকের দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নয়)
এ চক্রান্তে যুক্ত করা হয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পেশাদার অপরাধী ও ভাড়াটে কিলারদের। মাঠে নামানো হচ্ছে ভারতনিয়ন্ত্রিত ছদ্মবেশী জঙ্গি নেটওয়ার্ক; বিশেষ করে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি)। এ ছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলমান ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের বিরোধকে উসকে দিয়ে সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা। এতে ছাত্রলীগের কিছু সদস্য পরিচয় গোপন করে সংঘর্ষে ঢুকে প্রাণহানি ঘটিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর ছক রয়েছে। (লেখকের দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নয়)
কোনো ক্যাম্পাস বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটলে তার অভিঘাত শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় জমায়েত ঘটিয়ে তাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
গোয়েন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাকে চারটি স্তরে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ছোট ছোট দলের চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলারদের ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং। তৃতীয় স্তরে উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটানো। আর চতুর্থ স্তরে রয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টা।
হাসিনার সঙ্গে দুটি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজির বিরোধের আবহে বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আতঙ্ক বাড়ানো এবং পরে এর দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের নেতাদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা। সার্বিকভাবে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আতঙ্কিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে বয়ান তৈরি করা হবে কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে।
রাজনৈতিক মহলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি বিনষ্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক ছকটি করা হয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের সূত্রপাতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের বাছাই করা একটি ক্যাডার বাহিনীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছদ্মবেশে ইন্ধন জুগিয়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুযোগ বুঝে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ‘লাশ ফেলা’র মাধ্যমে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির মধ্যে চরম বিভেদ তৈরি করার নির্দেশনা রয়েছে। এ রক্তাক্ত নীলনকশা বাস্তবায়নে অর্থের বিপুল জোগানের প্রধান উৎস হিসেবে নাম এসেছে ভারতে পলাতক এক সাবেক মেয়রের। দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের সুযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব সংঘর্ষে ঢোকার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ক্যাডার বা জঙ্গি নেটওয়ার্কই নয়, পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকেও সরকার ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চলছে। দুই দেশের সরকারেরই উচিত স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক বিবেচনাকে ঊর্ধ্বে রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া।
শেখ হাসিনা ভারতে স্বাগত ও সুরক্ষিত অতিথি হিসেবে থাকতেই পারেন; কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তা কোনো এক ব্যক্তি বা বিশেষ স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে থাকা উচিত নয়। ভারত চাইলে এই মিডিয়া ইন্টার অ্যাকশন ঠেকাতে পারত। তাই বাংলাদেশ সম্ভবত এ ঘটনাকে ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র শেখ হাসিনাকে আরেকবার প্রশ্রয় দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেই দেখবে। এ ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারত মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমন একসময় এ ঘটনা ঘটেছে, যখন প্রায় দুবছর ধরে টানাপড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারত ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তারের অবান্তর অভিযোগ আনে এবং ভারত সরকার সেটা বলার সুযোগ করে দেয়, তখন ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে বলে মনে করি। তাই এখন বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কূটনৈতিক ভাষায় যতটুকু বোঝানো সম্ভব, সরকার তা বলার চেষ্টা করেছে।
এর আগেও বাংলাদেশ বারবার ভারতকে বলেছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা ঠিক কেমন সম্পর্ক চায়, সে বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। এ জঙ্গিবাদের তত্ত্বটা আওয়ামী লীগের পুরোনো নোংরা রাজনীতি। এটাই তারা এখন বিদেশের মাটিতে বসে আবার নতুন করে করার চেষ্টা করছে। এখন এটি চলতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে যখনই কোনো ঘটনা ঘটেছে, তখনই উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা হয়েছে। অথচ একই সময় তাদের নিজেদের হাতে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নত হোক এটা দুই দেশের সরকার ও জনগণ উভয়েই চায়। কিন্তু স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম’ চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা এখনই বন্ধ না করে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
দুই দেশের মধ্যে অনেক দ্বিপক্ষীয় ইস্যু আলোচনা, সংলাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে তারা মুখোমুখি বসে আলোচনা করতে চায় কিন্তু সিদ্ধান্তটা এখন ভারতকে নিতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট (মতামত লেখকে নিজস্ব)
কেকে/ এমএস