নীলফামারীর নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মৃন্ময় রায়ের (১৩) অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় সহপাঠীকে শেষ বিদায় জানাতে নীলফামারী কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হলে ক্লাসরুম থেকে বই-খাতা গুছিয়ে বের হওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃন্ময়। পরে তাকে দ্রুত নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নীলফামারী কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
মৃন্ময় রায় নীলফামারী শহরের সওদাগর পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা সাধন রায়। তিন সন্তানের মধ্যে মৃন্ময় ছিলেন তৃতীয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “মৃন্ময় ছিল অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থী। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে তার সুন্দর সম্পর্ক ছিল। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। বিদ্যালয়ের একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে হারানোর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
শোক প্রকাশ করে নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিন বলেন, “মৃন্ময়ের চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তার মতো একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আমরা ব্যথিত। এ ঘটনায় তার পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছি।”
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আফজালুল হক বলেন, “একটি শিশুর অকাল মৃত্যু সবসময়ই হৃদয়বিদারক। মৃন্ময়ের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। তার স্মৃতি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং পরিবারের সদস্যদের এই শোক সইবার শক্তি কামনা করছি।”
মৃন্ময়ের আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিনের উদ্যোগে নীলসাগর আদর্শ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়।