গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর জঙ্গলে অন্তত ১২টি ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুঁড়ি ও হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের কাদিম রাজিয়ারন গ্রামের উত্তর প্রান্তে, গোসিঙ্গা ও বরমী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুদিপাড়া এলাকার গভীর গজারি বনে এসব দেহাবশেষ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলটি কর্ণপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের কাছাকাছি হলেও আশপাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় তেমন কোনো বসতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুমন প্রধান বলেন, সোমবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় মোস্তফা তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২টি ঘোড়ার মাথাসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও রক্ত পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে ঘোড়াগুলো কে বা কারা সেখানে এনে জবাই করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকালে কৃষকেরা জমিতে কাজ করতে গিয়ে ঘোড়ার মাথা ও রক্ত দেখতে পান। পরে চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে লোকজন সেখানে ভিড় করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গভীর জঙ্গলে আনা হয়েছিল।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, জঙ্গলের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে ঘোড়ার মাথা, চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে যানবাহনের চাকার দাগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পাওয়া হাড়, মাথা ও অন্যান্য অবশিষ্টাংশ দেখে এগুলো ঘোড়ার বলে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মোট ১২টি প্রাণীর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া কোনো প্রাণী জবাই করা আইনগতভাবে বৈধ নয়। ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করব এবং দেহাবশেষগুলো যথাযথভাবে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তবে এ ঘটনায় ঘোড়াগুলোর মালিক বা মালিকদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এগুলো জবাই করেছে এবং মাংস কোথায় নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যেই নির্জন ওই স্থানে প্রাণীগুলো জবাই করা হয়ে থাকতে পারে।
কেকে/এমএস