মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িঘর স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী পারভীন বেগম থানায় অভিযোগ দাখিল করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশররফ হোসেন।
এলাকাবাসী জানায়, হরগজ মৌজার আর, এস ২১৮৫ নং খতিয়ানের ১৪৩২০ নং দাগে ১০ শতাংশ এবং ১৪৩২১ নং দাগের ৫২ শতাংশ সহ মোট ৬২ শতাংশ জমি নিয়ে সাবেক মেম্বার মো. ইসমাইল হোসেন মৃধা ও মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়ারিশের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ যুগ্ম জজ ২য় আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা রয়েছে। যার মামলা নং ১৪১/২০১৩।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ঘরের দরজা ভাঙ্গা, টিনের চাল ছিন্ন ভিন্ন ভাবে পড়ে আছে বিভিন্ন স্থানে। ঘরের সব সিমেন্টের খুটিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ভেঙ্গে গেছে।
মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গত রবিবার (১৬ আগষ্ট) দুপুরে হরগজ নয়া পাড়ার মোল্লা কান্দি এলাকার আলমগীর মৃধা, ফজলুল করীম শামীম, জাহাঙ্গীর মৃধা, আকাশ মৃধা, নুরুল ইসলাম মৃধা, আকবর, ফরহাদ আলী বাহার উদ্দিন মৃধা আরো অজ্ঞাত ১০/১২ জন লোক দেশীয় ধারাল অস্ত্র নিয়া দোচালা নতুন ঘর ভাংচুর করে। আমরা থামাইতে গেলে আমাদের উপর আক্রমণ করতে আসে।’
পারভীন বেগম বলেন, এ প্লটে মোট ১০২ শতাং জমি ছিল। মালিক ছিল দুই ভাই। কিন্তু এক পক্ষ মো. নুরুল ইসলাম বিক্রি করার পর জমি থাকে ৪৬ শতাংশ। ফেরাজ অনুযায়ী আমরা শরীকি ভাগ পাব ৫১ শতাংশ। কিন্তু জমি আছে ৪৬ শতাংশ। এ জমিও আমাদের দিতে চায় না। ফলে আমরা এ বিষয়ে ২০১৩ সালে মামলা করি। যা এখনও চলমান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পারি এ জমি থেকে পুনরায় আরো ১৪ শতাংশ জমি অন্যত্র বিক্রি করার জন্য বায়নার টাকা নেয় এবং দলিল কম্পোজ করে। এমন সংবাদ পাবার পর আমরা রেজিষ্ট্রি অফিসে অভিযোগ দিলে তা বন্ধ হয়। এতে নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে আলমগীর আরো বেপোয়ারা হয়ে উঠে। মামলা চলাকালীন সময়ে তথ্য গোপন রেখে জমি খারিজ ও জমি বিক্রি করে। তাই আমরা দখল স্বরুপ ঐ জমিতে স্থাপনা করি। আর সেই জমির উপর ঘর তারা ভাঙচুর করে। আমরা সুষ্ঠ বিচার চাই।’
প্রতিবেশী সামছুল হক বলেন, ‘শুধু এই জমি নয়, ইসমাইল হোসেন মৃধাদের আরো ওয়ারিশের জমি জোর পূর্বক বিক্রি করে দিচ্ছে এবং বুঝিয়ে দিচ্ছে না।’
প্রতিবেশী জয়নাল হোসেন বলেন, ‘একই তফসিলে ৪৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মামলাও চলছে। অথচ নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে আলমগীর হোসেন মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বিক্রি করতে পারে? এটা কোন দেশের আইন। অথচ ইসমাইল হোশেন তার ওয়ারিশের সম্পতির উপর স্থাপনা ভাংচুর করল।’
অভিযুক্ত মো. আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ করে নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মো. মোশররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে সাবেক মেম্বারের স্ত্রী বাদী হয়ে রবিবার রাতেই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সোমবার দুপরে এসআই মোজাম্মেল হোসেন কে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেকে/এআই