‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের প্রথম আসরে বাজিমাতের পর জেএফএ ফুটবল টুর্নামেন্টেও নিজেদের সেরাটা উপহার দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুরের পালিচড়ার মেয়েরা। জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ফাইনালে টাঙ্গাইলকে টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর জেলা দল। এ নিয়ে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো দলটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) টাঙ্গাইলে এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় গোলশূন্য সমতা থাকায় টাইব্রেকারে গড়ায় শিরোপার লড়াই। সেখানেই রংপুরের গোলরক্ষক সুমাইয়ার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় নিশ্চিত করে রংপুর।
টাইব্রেকারে রংপুরের তিনটি শট জালে জড়ালেও টাঙ্গাইলের কোনো শট গোল হয়নি। ফলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে রংপুরের কিশোরীরা।
রংপুরের গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সুমাইয়া। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিকবার দলকে রক্ষা করার পাশাপাশি টাইব্রেকারেও অসাধারণ দক্ষতা দেখান তিনি। ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সেরা গোলরক্ষক দুটি পুরস্কারই ওঠে তার হাতে।
টুর্নামেন্টে ছয় গোল করে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন রংপুরের অনন্যা। আর পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইলের মিম। বেস্ট ভ্যালুয়েভল প্লেয়ার নির্বাচিত হন রাঙ্গামাটির ৭ নম্বর জার্সিধারী থুইকারিমা মারমা।
ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালপুর-ভুয়াপুর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু (এমপি), বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহাফুজা আক্তার কিরন।
প্রসঙ্গত, রংপুর বালিকা দল ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৫ সালে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ইয়ুথ ফুটবলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন। এবার তারা হেক্সা মিশন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল। সেই স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা।
কেকে/এআই