বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: এনবিআরের পাঁচ অঙ্গীকার      কলকাতায় আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু      তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার      রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করব: মির্জা ফখরুল      প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      দুই জঙ্গিসহ এখনও পলাতক ৬৯০ কারাবন্দি, তথ্য নেই ১৬৬ জনের      সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
উগ্র ডানপন্থিদের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ইসরায়েল
ইহাব জাবারিন
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একটি আধুনিক রাষ্ট্রকে ধ্বংস বা পরিবর্তন করার জন্য সবসময় ট্যাঙ্ক নামানো, সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার প্রয়োজন পড়ে না। কিছু পরিবর্তন ঘটে অত্যন্ত নীরবে—রাষ্ট্রের নিজস্ব গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর ভেতরের সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে। বর্তমানে ইসরায়েলে ঠিক এ প্রক্রিয়াই চলছে। দেশটির উগ্র অর্থোডক্স (হারেদি) এবং ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো কোনো রকম বাহ্যিক বিপ্লব ছাড়াই শাসনব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে। তারা এখন আর সমাজের একটি সংখ্যালঘু অংশ হিসেবে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং রাষ্ট্রের মূল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের রাশ এখন তাদের হাতে। এর ফলে একদিকে যেমন ইসরায়েলি সমাজে লিঙ্গসমতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্রগুলো দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা আরও বেশি জঘন্য ও কঠোর রূপ ধারণ করছে।

আজ থেকে কয়েক বছর পর তেল আবিবের কোনো একটি সাধারণ সকালের কথা কল্পনা করা যাক। ক্যাফেগুলো স্বাভাবিকভাবেই খোলা রয়েছে, রাস্তায় নারীরা আগের মতোই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টও সচল আছে। বাহ্যিকভাবে দেখে মনে হবে—রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় কোনো আঘাত আসেনি, কোনো সামরিক অভ্যুত্থানও হয়নি। কিন্তু একটু গভীর দৃষ্টি দিলে বোঝা যাবে, সমাজের মূল সুরটি আমূল বদলে গেছে।

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি তথাকথিত ‘শ্রদ্ধা’ প্রদর্শনের অজুহাতে জনসমক্ষে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ বা লিঙ্গ-বৈষম্যমূলক এলাকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞান, গণিত কিংবা ইংরেজির মতো আধুনিক মূল বিষয়গুলো না পড়ানো সত্ত্বেও ধর্মীয় মাদ্রাসা বা স্কুলগুলোতে সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ অকাতরে ঢালা হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে রাষ্ট্র ও ধর্মের একটি মিশ্র চেতনার ছাঁচে বন্দি করা হচ্ছে। কোনো বাহ্যিক সামরিক শাসন ছাড়াই রাষ্ট্র তার ভেতরের আত্মাকে হারিয়ে এক উগ্র ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী কাঠামোয় রূপ নিয়েছে। এ দৃশ্যপট কোনো কাল্পনিক গল্প নয়; বরং বর্তমানে ইসরায়েলে যে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে, তা এ চূড়ান্ত পরিণতির দিকেই নির্দেশ করছে।

ইসরায়েলের বর্তমান নেসেট বা পার্লামেন্টের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে উগ্র অর্থোডক্স ও চরমপন্থি ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী দলগুলোর প্রাধান্য অভূতপূর্ব স্তরে পৌঁছেছে। ‘শাস’, ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’, ‘রিলিজিয়াস জিওনিজম’, ‘ওৎজমা ইহুদিত’ এবং ‘নোয়াম’-এর মতো দলগুলো এখন ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি। যদিও এসব দল কোনো একক বা অভিন্ন আদর্শিক ব্লকের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এদের মধ্যে নিজস্ব কিছু দ্বিমতও রয়েছে।

যেমন, হারেদি বা চরম অর্থোডক্স দলগুলোর মূল মনোযোগ থাকে ধর্মীয় শিক্ষার পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা করা, যুবকদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি বাজেট বাগিয়ে নেওয়া এবং অর্থোডক্স ধর্মীয় নীতি রক্ষা করার দিকে। অপরদিকে, ‘রিলিজিয়াস জিওনিজম’ এবং ‘কাহানিজম’ আদর্শের অনুসারী চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ধর্মের সঙ্গে উগ্র জাতীয়তাবাদ, অবৈধ বসতি স্থাপন, আগ্রাসী যুদ্ধ এবং ভূখণ্ডের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্যের রাজনীতিকে একত্রিত করেছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের বর্তমান কোয়ালিশন বা জোট সরকারে তাদের সম্মিলিত প্রভাব অপরিসীম। এসব উগ্রপন্থি এখন সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মূল শর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে তাদের সুদূরপ্রসারী ধর্মীয় দাবিগুলোকে রাষ্ট্রীয় নীতির একেবারে কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে, যা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সার্বিক চরিত্রকেই বদলে দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েলের এ ধর্মীয় চরমপন্থা নতুন করে কোনো বৈষম্য তৈরি করেনি ঠিকই, তবে তাদের ওপর চলে আসা বিদ্যমান বর্ণবাদী ও দমনমূলক ব্যবস্থাকে এটি এক চূড়ান্ত ও অতিভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে। একটি বিদ্যমান জাতিগত-জাতীয়তাবাদী ব্যবস্থার ওপর যখন উগ্র ধর্মীয় কর্তৃত্ব এসে যোগ হয়, তখন ফিলিস্তিনিদের ওপর অত্যাচার কোনো কৌশলগত বিষয় থাকে না; তা হয়ে ওঠে এক ধরনের ‘ঐশ্বরিক দায়িত্ব’। যখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইহুদিদের আধিপত্য বিস্তারকে একটি ‘ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন ফিলিস্তিনিরা শুধু কোনো জনসংখ্যাগত বা নিরাপত্তাজনিত হুমকি হিসেবে গণ্য হয় না। বরং তাদের দেখা হয় স্রষ্টার প্রতিশ্রুত ভূখণ্ডে ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মূল বাধা বা শত্রু হিসেবে।

এই উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যে নেগেভ অঞ্চলের বেদুইন ফিলিস্তিনিদের ওপর সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রতিনিয়ত গ্রাম ও বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে এবং নগর পরিকল্পনার নামে আরব এলাকাগুলোকে সংকুচিত করে ইহুদি বসতি বৃদ্ধির উন্মুক্ত সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে এই চরমপন্থি ধর্মীয় চিন্তাধারা ও জাতিগত বৈষম্যের মারাত্মক রূপ আরও স্পষ্ট। সেখানে অবৈধ বসতি স্থাপনের নীতি, বসতি স্থাপনকারীদের উগ্র সহিংসতা এবং উগ্র ধর্মীয় মতবাদ একে অপরকে সরাসরি মদদ দিচ্ছে। এতকাল সামরিক বা কৌশলগত নিরাপত্তার অজুহাতে যে দখলদারত্ব পরিচালিত হতো, তা এখন ‘ঈশ্বর প্রদত্ত জমি পুনর্দখলের’ এক পবিত্র মিশন হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, যখন ভূমি দখলকে কোনো রাজনৈতিক বিষয় না ভেবে ঈশ্বরের আদেশ হিসেবে দেখা হয়, তখন ভূমির বিনিময়ে শান্তির কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা আলোচনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। উগ্রপন্থিদের কাছে কোনো এলাকা থেকে পিছু হটা বা জমি ফিরিয়ে দেওয়া স্রেফ কোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং তা ঈশ্বরের প্রদত্ত আমানত সমর্পণ করা বা এক ধরনের মহাপাপ বলে গণ্য হয়।

ইসরায়েলি নাগরিক সমাজে লিঙ্গ-বৈষম্য ও স্বাধীনতার সংকোচন

উগ্র ধর্মীয় শক্তির এই উত্থান কেবল ফিলিস্তিনিদের জীবনই ধ্বংস করছে না, বরং ইহুদি ইসরায়েলি সমাজের ভেতরেও ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকে চরমভাবে সংকুচিত করছে। লিঙ্গভিত্তিক পৃথকীকরণ বা নারী-পুরুষ বিভাজন এর অন্যতম বড় উদাহরণ।

হিসাবটা খুবই সূক্ষ্ম। সমাজে নারীদের অধিকার হরণকে এখন আর ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না; বরং একে তুলে ধরা হয় ‘ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান’ বা ‘সংস্কৃতির অভিযোজন’ হিসেবে। কোনো গণপরিবহনে বা সরকারি অনুষ্ঠানে যখন নারীদের পেছনের সারিতে বসতে বাধ্য করা হয় বা তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়, তখন মূল বিতর্কটি নারীর অধিকার নিয়ে হয় না। বিতর্কটি ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এই বলে যে—রাষ্ট্র কতটা নমনীয় হয়ে ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর দাবি পূরণ করতে পারছে।

শিক্ষাব্যবস্থা ও নাগরিক দায়িত্বের চরম অসঙ্গতি

ইসরায়েলের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সাধারণ নাগরিক দায়িত্বের ভারসাম্যকেও এ উগ্র শক্তিগুলো চুরমার করে দিচ্ছে। রাষ্ট্র প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন শেকেল হারেদি বা চরম অর্থোডক্স স্কুলগুলোতে ঢালছে। কিন্তু এসব স্কুলে গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি বা আধুনিক যুগের জন্য প্রয়োজনীয় মূল বিষয়গুলো পড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। এখানে মূল সমস্যা শুধু এটি নয় যে উগ্র অর্থোডক্স সম্প্রদায় তাদের সন্তানদের নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী শিক্ষিত করার স্বাধীনতা পাচ্ছে কি না। মূল বিতর্কটি হলো—রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সাধারণ করদাতাদের টাকায় পরিচালিত একটি শিক্ষাব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিক দায়িত্ব ও শিক্ষার ন্যূনতম মান বজায় রাখার শর্ত কেন থাকবে না? এর ফলে রাষ্ট্র একদিকে একটি অদক্ষ ও আধুনিক শিক্ষাহীন জনগোষ্ঠী তৈরি করছে, অন্যদিকে তাদের সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক দায়ভার বহন করতে গিয়ে সাধারণ ও ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সামরিক বাহিনীতে উগ্র ধর্মীয় আদর্শের রূপান্তর

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), যা একসময় ইসরায়েলি সমাজের সর্বজনীন ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক বলে দাবি করা হতো, সেখানেও চরমপন্থি ধর্মীয় জিওনিস্টদের প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনাবাহিনীর কমব্যাট ব্যাটালিয়ন এবং উচ্চপদস্থ কমান্ডিং অফিসারদের পদে এখন প্রচুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী তরুণ উঠে আসছেন। কয়েক বছর ধরেই সেনাসদস্যদের যুদ্ধে উৎসাহিত করার জন্য আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় বার্তার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সামরিক আদেশ এবং উগ্র র‌্যাবাইদের (ধর্মীয় নেতা) নির্দেশের মধ্যে চরম বৈপরীত্য তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যখন কোনো অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করা বা কোনো যুদ্ধবিরতির প্রশ্ন আসে, তখন সৈনিকেরা কার আদেশ শুনবে—সেনা কমান্ডারের নাকি তাদের উগ্র র‌্যাবাইয়ের?

সমস্যাটি শুধু একক কোনো সেনাসদস্য তার কমান্ডারের চেয়ে র‌্যাবাইয়ের কথা শুনছে কি না, তা নিয়ে নয়। মূল বিপদটি হলো সামরিক শক্তি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের মধ্যকার সেই বিপজ্জনক মিলনে—যেখানে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করাকে কৌশলগত লক্ষ্য না ভেবে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি পূরণের ধাপ হিসেবে দেখা হয়। যুদ্ধকে যখন ‘ঐশ্বরিক মুক্তি’ লাভের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন যেকোনো কূটনৈতিক রাজনৈতিক সমঝোতা বা পিছু হটার সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বলতা’ এবং ‘পাপ’ বলে মনে করা হয়।

গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে এক নতুন একনায়কতন্ত্রের সূচনা

অবশ্যই, পার্লামেন্টে কয়েকটি ধর্মীয় দলের উপস্থিতি মানেই রাতারাতি ইসরায়েল একটি সম্পূর্ণ থিওক্রেসি বা পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে গেছে—এমনটি জোর দিয়ে বলা যাবে না। এখনো দেশটির আদালত ব্যবস্থা, মুক্ত সংবাদমাধ্যম, শক্তিশালী বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং এক বিশাল ধর্মনিরপেক্ষ জনগোষ্ঠী বিদ্যমান রয়েছে, যারা এ ধর্মীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, গণতন্ত্রের পতন সবসময় এক রাতে বা কোনো ঘটা করে ঘটে না। কখনো কখনো নির্বাচনগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই অনুষ্ঠিত হতে থাকে, অথচ পর্দার আড়ালে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নিয়মগুলো পরিবর্তন হয়ে যায়। পরিবর্তন ঘটে এ সংজ্ঞায় যে—কে প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে, মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে এবং রাষ্ট্র কার স্বার্থে পরিচালিত হবে।

উগ্র ধর্মীয় চরমপন্থার জন্য দেশের সমস্ত নির্বাচন বাতিল করা বা আদালত বন্ধ করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তেল আবিবের ক্যাফেগুলো খোলা থাকতে পারে, নিয়মিত ভোটগ্রহণ চলতে পারে, সুশীল সমাজ তাদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারে—কিন্তু এসবের আড়ালেই রাষ্ট্রের মূল আত্মাটি পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অক্ষত রেখেই সেগুলোকে এমন এক যন্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের ওপর এক বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক শাসনকে স্থায়ী রূপ দেবে এবং ভেতর থেকে নিজের ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়কে মুছে ফেলবে।

এখন মূল প্রশ্নটি এটি নয় যে ইসরায়েলে নির্বাচন বা আদালত টিকবে কি না; আসল প্রশ্ন হলো—এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোকে ব্যবহার করে প্রকৃতপক্ষে কেমন রাষ্ট্র তৈরি করা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কার শর্তে রাষ্ট্রটি পরিচালিত হতে যাচ্ছে।

লেখক: ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক গবেষক

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডানপন্থি   ইসরায়েল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close