দৈনিক খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদের পর পটুয়াখালীর দশমিনায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে এমসিকিউ উত্তরপত্র পূরণ ও প্রতিস্থাপনের অভিযোগে হল সুপার মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের সামনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, সুশীল সমাজ, আইনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ মানববন্ধন করেন।
অভিযুক্ত হল সুপার মো. মহিউদ্দিন ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক।
জানা যায়, চলতি এইচএসসি পরীক্ষার ১ আগস্ট কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের মূল কেন্দ্র থেকে সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপকেন্দ্রে এমসিকিউ উত্তরপত্র নেওয়া হয়। এ সময় হল সুপার মহিউদ্দিন তার মামাতো ভাই মোর্শেদ জিহাদের উত্তরপত্র বের করে মোবাইলে উত্তর সংগ্রহ করে তা পূরণ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শিক্ষকরা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান।
পরে এমসিকিউ উত্তরপত্র পূরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দৈনিক খোলা কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত হল সুপারকে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড চেয়ারম্যান অভিযুক্ত হল সুপারকে ৬ আগস্ট সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন একজন শিক্ষক নিজের আত্মীয়কে সুবিধা দিতে পরীক্ষার উত্তরপত্র পূরণ করেছেন—এটি গুরুতর অপরাধ। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, সুশীল সমাজ, আইনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “বুধবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেয়েছেন। স্মারকলিপিটি শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ