চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তার শিক্ষককে বাড়ির উঠানে ডেকে নিয়ে মারধর ও ধারালো কিরিচ নিয়ে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক পরিবারের তিন সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দৌলতপুর আব্দুল বারী চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের দাবি জানানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন কর্মসূচিও পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি একজন শিক্ষক হিসেবে ওই শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছিলেন। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানোর পর তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে তাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেরা মারধর করেন। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর কিরিচ নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত ছাত্রের বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে শিক্ষার্থী বা অন্য কেউ জড়িত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। এমন ঘটনা স্কুল ও এলাকার জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত। থানায় যেহেতু অভিযোগ হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই