কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
খোরশেদ আলম ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার ১১৫ নম্বর ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই দুপুরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে ওই ছাত্রীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি শিক্ষার্থী তার মাকে জানালে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে মারধর করে দোকানে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ২৮ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন। পরে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভুক্তভোগীর ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকে খোরশেদ আলম আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তার ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে পৃথক মামলা করে। ওই মামলার আসামিরা গত ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিন পান। শিক্ষক সমিতির নেতারাও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
কেকে/এআই