কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনোদনের আড়ালে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন জুয়া। জুয়া খেলে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন প্রকাশ্যে চলছে ক্যারাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলা নয়, এর আড়ালে চলছে জুয়া। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ আসর। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের নেশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা।
স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমও খেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন ও বাসা থেকে চুরি করা টাকা এনে জুয়ায় হারাচ্ছে।
স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এ জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে, টিউশনির টাকা মেরে অনেক ছাত্র এখন জুয়ার আসরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও চুরি-ছিনতাই আরও বাড়বে।
রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র এখন ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখি তারা মোবাইলে লুডু ও ক্যারাম বোর্ডে বসে থাকে। এটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।’
কেকে/এআই