ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিহতের বাড়িতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা মন্ডলের স্বামী অশান্ত মন্ডলের বাড়িতে যান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী নিহত প্রসূতি মায়ের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এ ছাড়াও মাতৃহারা শিশুটির পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষ থেকে বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের হাসপাতাল গুলোর সামনে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আকস্মিক পরিদর্শন চলছে। অনিয়ম পাওয়া মাত্রই ক্লিনিক বন্ধসহ লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আরও একাধিক হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ৫০ শয্যা এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালসিস সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী ৩ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’
নিহতের পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় এ মৃত্যু হয়েছে। ৫৩ দিনের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। দেড় মাস বয়সী শিশুসহ তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারটি। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণসহ দায়ীদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।
এ সময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের জন্য ভর্তি করা হয় কবিকা মন্ডলকে। সে দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষী রানী দত্ত সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান প্রসব করান। পরদিনই কনিকার পেট ফুলে যায় এবং অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে গত ৩ জুলাই ভর্তি করা হয়।
গত ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষায় দেখা যায় তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছে । সে দিনই অপারেশনের মাধ্যমে গজ বের করা হয়। পরবর্তী সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। নিহত নারীর সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানসহ ৩টি সন্তান রয়েছে।
কেকে/এআই