শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত      কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী      আপনার সাথে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি : মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি      রাষ্ট্রপতির শপথ শেষে বঙ্গভবন ছাড়ছেন অতিথিরা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রভাবনা
মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৩ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনীতি বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাঁদের নিজস্ব চিন্তা, দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশলের মাধ্যমে জনগণের সামনে নতুন নতুন দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। একজন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য কেবল দলীয় কর্মসূচি বা সমকালীন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, প্রশাসন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। একইভাবে সাংগঠনিক কর্মকৌশল প্রকাশ করে একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে, নেতৃত্বকে সক্রিয় রাখতে এবং রাজনৈতিক শক্তিকে সুসংহত করতে চায়। আর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব রাজনৈতিক ধারণাই রূপ নেয় নীতি ও সিদ্ধান্তে।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশ বহু রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে। বর্তমানে দেশের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক বিভাজন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা। এমন বাস্তবতায় একজন রাজনৈতিক নেতার দূরদর্শী চিন্তা ও কার্যকর নেতৃত্ব দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে যে ভাবনা প্রকাশ করেছেন, তার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। একজন নেতার রাষ্ট্রভাবনা নির্ধারণ করে তিনি কী ধরনের সমাজ গঠন করতে চান এবং নাগরিকদের জন্য কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা কল্পনা করেন।

তারেক রহমানের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনমুখী, বাস্তববাদী ও দক্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই নেতৃত্ব দেশকে জটিল উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া একটি রাষ্ট্র কখনো স্থিতিশীল হতে পারে না। তারেক রহমান বিভিন্ন সময় বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীল ও ইতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

গণতন্ত্র তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মতে, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা অপরিহার্য। গণতন্ত্র কেবল ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং সে অনুযায়ী কাজও করছেন।

তার রাষ্ট্রভাবনায় যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার চিন্তা তাঁর রাষ্ট্রভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের সুফল সরাসরি পৌঁছে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি এসডিজি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের নাফানগর, খুলনার দাকোপের পানখালী এবং রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিটিংগাছড়ি। এসব আদর্শ গ্রামে একসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ (One Village One Product) নীতি, ব্লু এমপ্লয়মেন্ট, ইকো-ট্যুরিজম, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমানের ভাবনায় বেসরকারি খাতের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ইতোমধ্যে পোশাক শিল্প, কৃষি ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব এবং দুর্নীতির মতো সমস্যাও বিদ্যমান। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষিখাতকে আধুনিকায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রায়ই ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সমন্বয়’ বিষয়টি উঠে আসে। তিনি মনে করেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এর অংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতে কার্যকর সংস্কার ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে তাঁর রাষ্ট্রভাবনায় মানবসম্পদ উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও তাঁর সম্ভাব্য রাষ্ট্রভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লাখো রোহিঙ্গা। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কূটনীতি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানও একটি রাষ্ট্রনায়কের গ্রহণযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দুর্নীতি দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে হলে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারেক রহমান সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তারেক রহমান শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শহর ও গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা দূর করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও দেশপ্রেমের চর্চা শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখনো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংকট প্রকট। তারেক রহমানের ভাবনায় স্বাস্থ্য খাতকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করাও জরুরি।

সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বাংলাদেশ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দেশ। এখানে বিভিন্ন মত, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। রাজনৈতিক সংঘাত ও সামাজিক বিভাজন দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর রাষ্ট্রভাবনায় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

নারীর ক্ষমতায়ন বর্তমান রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নারীদের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং নেতৃত্ব বিকাশের জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে নারী-পুরুষের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তবে যে কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সমালোচনা ও বিতর্কও থাকে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা নেতৃত্বের পরিপক্বতার পরিচায়ক। তাঁর নেতৃত্বে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা সুদৃঢ় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ বর্তমানে একদিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দেশ, অন্যদিকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি একটি রাষ্ট্র। জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্ব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগে নেতৃত্বকে হতে হবে দূরদর্শী ও বাস্তবমুখী। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের রাষ্ট্রভাবনা সফল করার জন্য গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সমন্বয় ঘটাতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।

টেকসই রাষ্ট্রের তিনটি মূল ভিত্তি

একটি টেকসই ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে তারেক রহমান তিনটি সুনির্দিষ্ট স্তম্ভ বা রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন। এগুলো হলো—

প্রথমত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র: যেখানে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি থাকবে।

দ্বিতীয়ত, মানবিক রাষ্ট্র: যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তৃতীয়ত, কল্যাণ রাষ্ট্র: যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাম্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

তারেক রহমানের এই প্রত্যয়ের মূল দর্শন হলো জাতিসংঘের এসডিজির মূলমন্ত্র ‘Leave No One Behind’ বা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’। দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠী—সবাইকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বনির্ভর, ঋণমুক্ত ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণই এই ভিশনের মূল লক্ষ্য।

রাষ্ট্রভাবনা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের নকশা। তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের যে ধারণা প্রতিফলিত হয়, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে যে কোনো রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর বাস্তব কর্মপরিকল্পনা, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতার মাধ্যমে।

বাংলাদেশের জনগণ সবসময় এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে, যারা জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের রাষ্ট্রভাবনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

দেশের কল্যাণে সব রাজনৈতিক দল, নেতা ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে—এটাই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত বাংলাদেশের মূল চাবিকাঠি।

লেখক: সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  তারেক রহমানের রাষ্ট্রভাবনা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close